একাধিক বিতর্কিত ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই ভিডিওকাণ্ডে ক্ষোভ ও প্রতীকী ঝাড়ু মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। হাতে ঝাড়ু ও সংসদ সদস্যের ছবি নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীরা “ছি ছি নজরুল, লজ্জায় বাঁচি না”, “হই হই রই রই, বটবাহিনী গেলি কই” এবং “শ্যামনগরে হবে না, বটবাহিনীর ঠিকানা”সহ নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা শ্যামনগর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে মিছিলটি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সামনে এসে এক মানবববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অবাঞ্ছিত ঘোষণার পাশাপাশি তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানান।
বক্তারা বলেন, ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবি করা টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই সৃষ্টি বলে দাবি করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে।
পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরিয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
মিছিলে অংশ নেওয়া একাধিক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তারা প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে নারীনেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, “আমরা নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা চাই। শুধু মুখে বড় কথা বললেই হবে না, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম বলেন, “জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু একের পর এক বিতর্কে তারা আজ প্রতারিত বোধ করছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
নাগরিক নেতা অধ্যক্ষ আবু সাইদ ও আশিকি এলাহি মুন্না বলেন, “প্রথমে ছবি ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশ এবং এমপি নিজেই ফেসবুকে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এমনকি স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পুরো শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সমাবেশ চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়।
এদিকে, সমাবেশে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বা তার পক্ষে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









