১৮ মাসে বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে ‘হতাশ’ মাসদার হোসেন

বাহাউদ্দিন ইমরান
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৬আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৬

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার মোট ১১টি ভিন্ন কমিশন গঠন করেছিল। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কমিশন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলো বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন। তবে কমিশনের সদস্য হয়েও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এর অন্যতম সদস্য ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার বাদী মো. মাসদার হোসেন।

বিচার বিভাগকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে গঠিত কমিশনে মোট ৮ জনকে সদস্য করা হয়েছিল। কমিশনের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান।

বাকি সদস্যদের মধ্যে ছিলেন—হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমদাদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমদ শিবলী, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং মাসদার হোসেন বনাম রাষ্ট্র মামলার বাদী মো. মাসদার হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক (সুপন) এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন।

বিচার বিভাগ নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি কমিশন প্রতিবেদন দাখিল করে। ৩৫২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বিচার বিভাগের সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপসমূহ তুলে আনা হয়েছিল। তবে কমিশনের সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠিত হলেও প্রত্যাশিত সংস্কার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং মাসদার হোসেন বনাম রাষ্ট্র মামলার বাদী মো. মাসদার হোসেন।

মাসদার হোসেন ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ। অবসরের পর তিনি নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মামলা করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ উক্ত মামলার রায়ে দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের সিভিল সার্ভিসের সদস্য হিসেবে গণ্য না করে একটি পৃথক সার্ভিস হিসেবে বিবেচনা করে। মাসদার হোসেন মামলার রায় ১৯৯৯ সালে ঘোষিত হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারসমূহ তা বাস্তবায়ন করেনি।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের লক্ষ্যে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন এবং জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৃথক জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করেন।

বিগত ১৮ মাসের বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিষয়ে মাসদার হোসেন বলেন, “বিগত ১৮ মাসে কি হয়েছে? গায়েবী মামলার যে চরিত্র (পূর্বের সরকারের আমলের) সেই চরিত্র কি অনুষ্ঠিত হয়নি? আমরা দেখেছি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তাগণ হাইকোর্টে গিয়ে শাউটিং করেছে যে—এই জামিনগুলো, এই ব্যক্তির জামিনগুলো (আবেদন) আপনারা শুনবেন না, এটা দেখবেন না। এর ধারাবাহিকতায় নিম্ন আদালতের বিচারকেরা আমাকে বলেছেন, ‘আজ যদি জামিন শুনি, কাল সকালে আমার বদলি অর্ডার হয়ে যাবে। এটা আমাকে রিজেক্ট করতে হবে।’ বিচারকদের প্রতি এরকম চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিচার বিভাগ আগে থেকেই ফরমায়েশিতভাবে চলছে। এখনো সাহসিকতার সঙ্গে ন্যায়বিচার কার্যকর করার মানসিকতা আমাদের কয়জন বিচারকের আছে?”

হতাশা প্রকাশ করে মাসদার হোসেন আরও বলেন, “সংস্কারের যে আশা নিয়ে আমরা (বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন) গিয়েছিলাম, আমি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ হয়েছি। জনগণের কল্যাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ভিজিবল হয়নি। নিরপেক্ষ বিচার ও জনসাধারণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করা যায়নি। এখানে চাঁদাবাজি হয়েছে, লুটপাট হয়েছে, মব জাস্টিস হয়েছে এবং অবিচার হয়েছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যদি এই বিষয়ে মেজারমেন্ট নিয়ে কাজ করত, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।”

/এম/  
সম্পর্কিত
হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান কারাগারে
মোহাম্মদপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই: দুই আসামি রিমান্ডে
মিরপুরের সেই বৃদ্ধার সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, তদন্ত চেয়ে রিট
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম