বিজয়ী এমপিদের প্রায় অর্ধেকই ঋণগ্রহীতা: সুজন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৫আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৫

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের মধ্যে ১৪৭ জন বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৫০ শতাংশ। তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন। ঋণগ্রহীতা বিজয়ীদের মধ্যে ১২৬ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) এ তথ্য উপস্থাপন করে।

সুজন আরও দাবি করেছে, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার ঋণগ্রহীতার হার বেড়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে ঋণগ্রহীতার হার ছিল ৪৫ শতাংশ, যা এবারে বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সুজন।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। তারা তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেট প্রকাশ করে তারা হাত মুছে নিয়েছে। তাদের আর কোনও কিছু করার নেই!

তিনি মনে করেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য, তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে নির্বাচনি ফলাফলের সমীকরণ বদলে যায়। তখন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তিনি বলেন, যখন এ রকম প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্ত করে ফলাফল বাতিলও করতে পারে। আবার নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে তারা। এই নির্বাচনেও এই প্রশ্নগুলো উঠেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি।

সুজন সম্পাদক আরও বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল। তারা আদালত থেকে ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকের বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এ রকমও অভিযোগ উঠেছে যে, অনেকে দ্বৈত নাগরিক এবং তারা প্রয়োজনীয় নথি না দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। এসব বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর গেজেট প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্বাচনের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুষ্ঠু হয়েছে কিনা, সেটি ‘সার্টিফাই’ করারও সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটা পালন করেনি।

তবে এখনও সুযোগ আছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, আরপিওর ৯১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে, কোনও অভিযোগ ওঠে, তাহলে গেজেট প্রকাশের পরেও এটা তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তারা নির্বাচনও বাতিল দিতে পারবে।

 

/এসএনএস/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
এমপি মাসুদের দম্ভোক্তির জোর কোথায়?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানা‘যে রাষ্ট্র শিশুকে বলাৎকার থেকে রক্ষা করতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধের মদত দেয়’
দুই ঘণ্টায় ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, মেজরকে চেইঞ্জ করেছি, পাওয়ারে এমপি হইছি
সর্বশেষ খবর
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম