হরমুজ প্রণালি বন্ধ: আটকে আছে তেলবাহী দুই জাহাজ, এলএনজিতেও অনিশ্চয়তা

সঞ্চিতা সীতু
০৫ মার্চ ২০২৬, ০০:০২আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০০:০২

হরমুজ প্রণালি থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব থেকে আসার কথা থাকা দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ এখনও রওনা দিতে পারেনি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, প্রতিটি জাহাজে এক লাখ টন করে মোট দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল রয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সৌদি অ্যারামকো থেকে লোডিং শেষে ২ মার্চ জাহাজ দুটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা ছিল। সময়সূচি অনুযায়ী ১৩ মার্চ নাগাদ চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা থাকলেও প্রণালি বন্ধ থাকায় সেগুলো সৌদিতেই আটকে আছে। এতে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেডের কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১৪ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করে।

বিপিসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান জানান, সরবরাহ সচল রাখতে ২ মার্চ পর্যন্ত সাতটি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে। জুন পর্যন্ত পরিশোধিত তেল আমদানির চুক্তিও চূড়ান্ত। এসব তেল চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসবে এবং এ রুটে আপাতত কোনও সংকট নেই।

বর্তমানে দেশে ডিজেল ১৪ দিনের, অকটেন ২৮ দিনের, পেট্রোল ১৫ দিনের, ফার্নেস অয়েল ৯৩ দিনের এবং জেট ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

এলএনজিতেও অনিশ্চয়তা

ক্রুড অয়েলের পাশাপাশি দুটি এলএনজি কার্গো আমদানিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ১৫ ও ১৮ মার্চ এসব কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বলেন, “১৫ ও ১৮ মার্চের দুটি কার্গো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কাতার গ্যাসকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তবে তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। জরুরি অবস্থার শর্ত যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে। দেবে কি দেবে না—স্পষ্ট না হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আমাদের এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা সীমিত।”

তিনি জানান, সম্ভাব্য সংকট বিবেচনায় দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে আগামী সাত দিনে এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হবে, যা দিয়ে কয়েকদিন বাড়তি সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সার উৎপাদনে দৈনিক ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, যা পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ ৮৭০ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামানো হবে। গত ২ মার্চ ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে চাপ বাড়তে পারে। তবে আপাতত মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ সাশ্রয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

/এম/  
সম্পর্কিত
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
দাম বাড়ানোর পরও বিদ্যুতে ভর্তুকি প্রয়োজন: বিইআরসি
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম