যশোরের নোয়াপাড়া নদীবন্দরে লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে নৌপরিবহন অধিদফতর। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অধিদফতরের গঠিত টাস্কফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করে। ১০ দিনের বেশি সময় জাহাজ অপেক্ষমাণ রাখার দায়ে দুটি কনসাইনি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সময় জাহাজ আটকে রেখে মালামাল খালাস না করায় ‘এস এস শিপিং’ এবং ‘নোয়াপাড়া ট্রেডিং’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানকে কৃষি পণ্য বিপণন আইনের ১৯ (ঠ) ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে নৌপরিবহন অধিদফতরের স্পেশাল অফিসার (মেরিন সেফটি) রোকসানা খাইরুন নেছা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগত ৪১টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ২৬টি চট্টগ্রাম থেকে গম, মসুরি ডাল, সার ও সালফেট নিয়ে এসেছে এবং বাকি ১৫টি মোংলা বন্দর থেকে সার ও কয়লা বহন করে এনেছে। পরিদর্শনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা ৮টি এবং মোংলা থেকে আসা ৩টি জাহাজ ১০ দিনের বেশি সময় ধরে অপেক্ষমাণ ছিল। ২০ দিনের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল ৩টি জাহাজ। অভিযানে ৭ দিনের বেশি অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোকে দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, নোয়াপাড়া নদীবন্দরের সকল ঘাটে পণ্য খালাস কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলছে। তবে পণ্যবোঝাই জাহাজের তুলনায় ঘাটের সংখ্যা কম হওয়ায় খালাসে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যশস্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে খালাস করায় যান্ত্রিক পদ্ধতির তুলনায় সময় বেশি লাগছে।
নৌপরিবহন অধিদফতর জানিয়েছে, লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা বন্দরের শৃঙ্খলা নষ্ট করার প্রচেষ্টা রুখতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।









