সহকর্মী এক সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার অভিযোগে সামছুল ইসলাম সনেট ওরফে মোতালেব (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. শেখ ফরিদ বাদী হয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলাটি আদালতে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে বিচারক মাহফুজুর রহমান তা আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মীর আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০৬ (২) ধারায় করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনও জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. শেখ ফরিদ পেশায় একজন সাংবাদিক এবং বর্তমানে ঢাকা কোর্ট এলাকায় ‘কোর্ট রিপোর্টার’ হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত সামছুল ইসলাম সনেটও একই পেশায় যুক্ত থাকায় তাদের মধ্যে আগে থেকে পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। তবে বাদীর অভিযোগ, বন্ধুত্বের আড়ালে সনেট তার ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাদী তার সহকর্মী ইকলাছুর রহমানের মাধ্যমে জানতে পারেন অভিযুক্ত সনেট তার ফেসবুক আইডি “Samsul Islam” থেকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বাদীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বাদীর বর্তমান কর্মস্থলেও ওই ছবিগুলো পাঠিয়ে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় একবছর আগে অভিযুক্ত কৌশলে বাদীর মোবাইল ফোন থেকে তার ও তার স্ত্রীর কিছু ব্যক্তিগত এবং আপত্তিকর ছবি চুরি করে নিজের ফোনে স্থানান্তর করেন। পরে সেই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন এবং তা না দিলে কিংবা তার কথা মতো না চললে ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী তার অভিযোগে বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার ও মানহানিকর কর্মকাণ্ডের ফলে তিনি সামাজিকভাবে চরম হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। কর্মস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এর আগে একই বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও অভিযুক্তের হয়রানি বন্ধ না হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. শেখ ফরিদ বলেন, প্রায় এক বছর আগে তার মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত কিছু ছবি চুরি হয়ে যায়। পরে কর্মসূত্রে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেই ছবিগুলো বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করা হয়েছে। সাবেক এক সহকর্মীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে অভিযুক্ত সামছুল ইসলাম তাকে একাধিক ছবি পাঠিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি উল্টো হুমকি দেন। এ বিষয়ে আদালতের বিচারক তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, পরবর্তী ধাপেও তারা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সামছুল ইসলাম সনেট ওরফে মোতালেবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানতে পারেননি বলে জানান তিনি।









