প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না। তিনি বলেন, “আমরা অনির্দিষ্ট সময় ধরে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারি না। যদি আমরা সবসময় বলি যে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ কাজ করেছে, তাহলে এ সংকট সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রোহিঙ্গা সংকটের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও টেকসই সমাধান নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন (এসপিএফ) এর পিস বিল্ডিং প্রোগ্রাম, সহযোগিতায় ছিল ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপিএসএ)।
তিতুমীর বলেন, কেন বাংলাদেশে জীবিকা নির্বাহ বা ‘মার্শাল প্ল্যান’ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—এ প্রশ্নও তুলতে হবে। তার মতে, এ ধরনের পরিকল্পনার আলোচনা মূলত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে হওয়া উচিত।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বাংলাদেশ সরকার কোনো ‘মার্শাল প্ল্যান’-এ আগ্রহী নয়।
তিতুমীর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারেই রোহিঙ্গাদের জন্য বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা—যেখানে তারা বসবাস, কাজ ও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে এবং মানবিক মর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।
ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ তুলে তিতুমীর বলেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার কথা বলা হলেও বাস্তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ কোথায়—সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগ থাকলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার চায় প্রতিটি শিশু, প্রতিটি মা ও প্রতিটি মানুষ যেন পূর্ণাঙ্গ জীবনযাপন করতে পারে। তাদের নিজ দেশে, নিজ সংস্কৃতি ও মাতৃভূমিতে ফিরে গিয়ে নিজেদের সম্ভাবনা বিকশিত করার সুযোগ থাকা উচিত।
অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থিত জিসিইআরএফ-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. খালিদ কোসার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহাব এনাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান, আইইউবি’র সিবিওবিএস পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. খুরশেদ আলম, ইউএনএইচসিআর-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অফ মিশন নাওকি তাকাহাশি।








