হরমুজ প্রণালির সাবমেরিন ক্যাবল কেটে গেলে পরিণতি কী হতে পারে?

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৬আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জায়গাগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে শুধু তেল নয়—এই অঞ্চলের সমুদ্রতলের নিচ দিয়ে গেছে অসংখ্য সাবমেরিন ক্যাবল, যা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড।

যদি কোনোভাবে এই ক্যাবলগুলো কেটে ফেলা হয়, তাহলে তার প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ এবং বহুমাত্রিক—

ইন্টারনেট সংযোগে বড় ধাক্কা

মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের বড় অংশ এই ক্যাবলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেট ধীর হয়ে যেতে পারে, এমনকি কিছু অঞ্চলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতাও তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথে চাপ তৈরি হবে।

ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেনে বিপর্যয়

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সিস্টেম, অনলাইন পেমেন্ট, রেমিট্যান্স—সবই এই ডেটা ক্যাবলের মাধ্যমে চলে। কেবল কাটা পড়লে লেনদেন ধীর হয়ে যেতে পারে বা সাময়িকভাবে বন্ধও হতে পারে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।

তেল ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে

হরমুজ প্রণালি এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। এখানে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। সাবমেরিন ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ ব্যাহত হয়ে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।

সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা বৃদ্ধি

এই ধরনের ঘটনা শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং সরাসরি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তিধর দেশ এটিকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখবে, ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

বিকল্প নেটওয়ার্কে চাপ ও ধীরগতি

ক্যাবল কেটে গেলে অন্য রুট দিয়ে ডেটা পাঠানো হবে, কিন্তু এতে নেটওয়ার্কে চাপ বাড়বে। ফলে ভিডিও কল, সোশ্যাল মিডিয়া, স্ট্রিমিং—সবকিছুতেই ধীরগতি দেখা দিতে পারে।

/এম/  
সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
সর্বশেষ খবর
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী