বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর কোনও ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
বর্তমান হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, এই ক্রাশ প্রোগ্রাম আসলে কী, আর কীভাবে ক্রাশ করা হয়?
ক্রাশ প্রোগ্রাম কী?
ক্রাশ প্রোগ্রাম হলো একটি জরুরি কর্মসূচি, যেখানে সীমিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেবা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়।
বর্তমানে সরকার দেশের ১৮টি জেলায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার ক্রাশ কর্মসূচি নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় যত দ্রুত সম্ভব ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনকে সরকার। আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
এটি কোনও সাধারণ টিকা ক্যাম্পেইনের মতো ধীরে ধীরে নয়। বরং একেবারে “স্ল্যাম-ড্যাশ” মুভমেন্ট—যেখানে দ্রুত, একযোগে এবং সঠিকভাবে টিকা দেওয়া হয়।
ক্রাশ প্রোগ্রাম কীভাবে করা হয়?
জোন নির্ধারণ ও ঝুঁকি মানচিত্র: প্রথমেই স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেন। যেখানে সংক্রমণ বেশি, সেই জোনে ফোকাস করা হয়।
দলের প্রশিক্ষণ ও মোবাইল টিম: টিমগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অনুযায়ী ভাগ করা হয়। টিমে থাকেন—চিকিৎসক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক।
টিকার সরবরাহ এবং ফলো-আপ: পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা; শিশুদের টিকাদানের রেকর্ড রাখা; যে এলাকায় কেউ বাদ পড়েছে, সেখানে পুনরায় যাওয়া
সচেতনতা ও এডুকেশন: শুধু টিকা দেওয়াই নয়। পরিবারকে শেখানো হয়—হাম কী, কীভাবে সংক্রমণ হয় এবং টিকা কেন জরুরি।
দ্রুত রিপোর্টিং ও মনিটরিং: ক্রাশ প্রোগ্রামের মূল বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত ফিডব্যাক। কতজন শিশুকে টিকা দেওয়া হলো; কোন এলাকায় লোপ পেয়েছে; কোথায় আরও মনোযোগ প্রয়োজন; এসব তথ্য দ্রুত হালনাগাদ করা হয়।









