জুলাইয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় গুলিতে ট্রাকচালক সুজন নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের মামলার বাদী ভুক্তভোগীর ভাই রফিকুল ইসলামকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ মে তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন। মামলাটিতে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও উস্কানিমূলক বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নিধনের ঘোষণা আসে। আর তা বাস্তবায়ন করেন সাবেক কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজিব, আসিফ আহম্মেদ সরকার ও সলিমউল্লাহ সলুরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ইন্সপেক্টর শংকর কুমার ঘোষ গত ১১ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে এজাহারনামীয় ৪৭ আসামিসহ অজ্ঞাত ৪৫০-৫০০ জনের প্রকৃত ও সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে না পারায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে তদন্তকর্তা।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, সাবেক কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজিব, আসিফ আহম্মেদ সরকার ও সলিমউল্লাহ সলু।
অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– মাহবুবুল আলম, আলম হোসেন, আরিফ, ফাহিম খান, রিয়াজ মাহমুদ, নজরুল ইসলাম, পীযূষ বাবু, মাসুদ ওরফে কালা মাসুদ, দেলোয়ার, বশির মোল্লা।
অভিযোগপত্রে তদন্তকর্তা শংকর কুমার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ জুনের পর সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা আরোপ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে সারা দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা। ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার সম্বোধন’ করে। এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন প্রতিহত করতে শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশে তারিকুজ্জামান রাজীব, আসিফ আহমেদসহ অন্যরা ২০ জুলাই রাত ৮টার দিকে বছিলা রোডের তিন রাস্তার মোড়ে মিছিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুজন পেশায় একজন ট্রাকচালক। সে তার ট্রাকটি মোহাম্মদপুর থানার বেড়িবাধে লাওতলা পার্কিংয়ে রাখার জন্য সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়। পরে তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওই বছরের ২২ অগাস্ট শেখ হাসিনাসহ ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন সুজনের ভাই রফিকুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম লেখেন, আসামিদের নির্দেশনায়, পরিকল্পনায় এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে ২০ জুলাই রাত ৮টার দিকে বছিলায় শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি করা হয়। এতে তার ভাই ট্রাকচালক সুজন আহত হন। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।









