দেখতে অবিকল একটি স্টিলের কলম। ওপরে পুশ-বাটন, সামনে সুচালো নিব—যেন স্বাভাবিক অফিসের একটি ব্যবহার্য জিনিস। কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে গুলি। একটি মোচড়, একটি চাপ—আর বেরিয়ে আসে প্রাণঘাতী বুলেট।
সম্প্রতি পুরান ঢাকার নয়াবাজারে এক যুবদল নেতাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এমন একটি ‘পেনগান’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে খুলনায় একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষায়, এই অস্ত্র এখন দেশের অপরাধ জগতে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন পেনগান এতটা ভয়ংকর?
চোখে ধরা পড়ে না: পেনগানকে সবচেয়ে বিপজ্জনক করে তুলেছে এর ছদ্মবেশ। সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল একটি কলম। ফলে সন্দেহ জাগে না, আর এই সুযোগটাই নেয় অপরাধীরা।
সহজে বহনযোগ্য ও লুকানো যায়: আকারে ছোট হওয়ায় এটি পকেট, ব্যাগ এমনকি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরেও লুকিয়ে রাখা যায়। সাম্প্রতিক ঘটনাতেও এমনভাবেই এটি বহন করা হচ্ছিল।
হঠাৎ আঘাত হানার সুযোগ: এই অস্ত্র দিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। লক্ষ্যবস্তু বুঝে ওঠার আগেই হামলা চালানো সম্ভব, যা এটিকে আরও প্রাণঘাতী করে তোলে।
অপরাধ জগতে নতুন ট্রেন্ড?
নয়াবাজারের ঘটনায় ডিবি পুলিশ যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ থেকে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে পেনগানটি জব্দ করে। তদন্তে জানা গেছে, অস্ত্রটি প্রায় ৮০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল এবং এটি আরও বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।
এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাতেও এমন অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য মিলছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পেনগান ধীরে ধীরে অপরাধীদের কাছে আকর্ষণীয় অস্ত্র হয়ে উঠছে।
কোথা থেকে আসছে এই অস্ত্র?
তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, পেনগানটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে আসতে পারে। তবে এতে কোনও শনাক্তযোগ্য চিহ্ন না থাকায় এর উৎস নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম এখন এর চোরাচালান রুট, কারিগর এবং নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে কাজ করছে।
নিরাপত্তার জন্য কী বার্তা?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অস্ত্রের বিস্তার—শহুরে নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি; টার্গেট কিলিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।









