ঢাকার অপরাধ জগতে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ক্ষুদ্র অস্ত্র, তৎপর গোয়েন্দারা

সুজন কৈরী
১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০১আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০১

ঢাকার অপরাধ জগতে অত্যন্ত ক্ষুদ্র অথচ প্রাণঘাতী নতুন ধরনের অস্ত্রের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সাধারণ কলমের মতো দেখতে এবং পকেটে বহনযোগ্য এই ‘পেনগান’ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। সম্প্রতি পুরান ঢাকার এক খুনের চেষ্টায় এই অস্ত্র ব্যবহারের পর অভিযান চালিয়ে এর নেপথ্যের কারিগরদের শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহৃত ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের মতো কিছু অস্ত্র অপরাধীদের কাছে পৌঁছে গেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চোরাই পথে পেশাদার অপরাধীরা এসব অস্ত্র সংগ্রহ করে থাকতে পারে। এ-কারণে গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। 

গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর লালবাগের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে কলমের মতো দেখতে একটি ক্ষুদ্র কিন্তু প্রাণঘাতী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সাধারণ কলমের মতো পকেটে বহনযোগ্য হলেও মুহূর্তেই এটি মারণাস্ত্রে পরিণত হতে পারে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা পেনগানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ ইঞ্চি। এর মাথার অংশ পিতলের তৈরি গোলাকার এবং কলমের ক্লিপ আকৃতির অংশ ট্রিগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নিচের অংশ বা নিব খুললে ভেতরে শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বুলেট ব্যবহার করা যায়। গ্রেফতার আসামিরা চোরাই বাজার থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকায় অস্ত্রটি সংগ্রহ করে।

গোয়েন্দা পুলিশ আরও জানায়, গত ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার নয়াবাজারে দিনের বেলা সংঘটিত এক গুলির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই পেনগান উদ্ধার করা হয়। ওইদিন যুবদল নেতা রাসেলকে হত্যাচেষ্টায় এই ক্ষুদ্রাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অস্ত্রটি থেকে একবারে একটি বুলেট ছোড়া যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে সোহেল ওরফে কাল্লু এবং সাইমন নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকেই বিশেষ এই অস্ত্রটি জব্দ করা হয়। বর্তমানে অস্ত্রটির উৎস ও সম্ভাব্য চোরাচালান রুট শনাক্তে কাজ করছে গোয়েন্দারা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, “নয়াবাজারের ঘটনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। প্রথমে যাত্রাবাড়ী থেকে সাইমনকে এবং পরে কেরানীগঞ্জ থেকে কাল্লুকে গ্রেফতার করা হয়। কাল্লুর কাছ থেকেই পেনগানটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এটি কোনও সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র নয়। এর আগে ঢাকায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনও রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অস্ত্রটি কীভাবে দেশে প্রবেশ করেছে, কারা পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং অন্য কোথাও এর ব্যবহার হয়েছে কিনা— তা খতিয়ে দেখতে একাধিক টিম কাজ করছে।”

আহত যুবদল নেতা রাসেলকে ৩ এপ্রিল নয়াবাজারের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে গুলি করা হয়। পরিবারের দাবি, পরিচিতজনদের ডাকে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর একই ব্যক্তিরা তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা পেনগানটি একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ছিল। পুলিশ সন্দেহ করছে, অস্ত্রটি ভারত অথবা পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে দেশে আসতে পারে। গ্রেফতার এক আসামি জানিয়েছে, অস্ত্রটি ৮০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল এবং বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। মাদক সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই গুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দারা আরও জানান, জব্দ করা অস্ত্রে কোনও কোম্পানির লোগো বা শনাক্তযোগ্য মার্কিং নেই, ফলে এর উৎপত্তি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাতে এ ধরনের ক্ষুদ্র অস্ত্র ব্যবহারের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের মতে, আধুনিক নগর অপরাধে বড় অস্ত্রের বদলে সহজে লুকানো যায় এমন ক্ষুদ্র অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। সাধারণ জিনিসের ছদ্মবেশে থাকা এসব অস্ত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, লিপস্টিক, মানিব্যাগ, কোমরের বেল্ট কিংবা হাতের তালুর ভেতর লুকিয়ে রাখা যায় এমন ছোট আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র থেকে এক বা দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া যায়। গুপ্তচরবৃত্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ব্যবহারের জন্য এগুলো তৈরি করা হয়। সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় এসব অস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন হলেও গোয়েন্দারা সেগুলো চিহ্নিত করতে তৎপর রয়েছেন।

/জেইউ/এসটি/ 
সম্পর্কিত
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
কিশোর গ্যাং ধরে তাবলীগে পাঠাবো: পুলিশ সুপার
ইউনিয়ন কক্ষে কোটি টাকা, ক্যাম্পাসে শয়নকক্ষ; কলকাতার কলেজে তোলপাড়
সর্বশেষ খবর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের