জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলাকে ঘিরে ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এমএইচ পাটোয়ারী বাবু আত্মসমর্পণ করেছেন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এ বিষয়ে পরে শুনানি হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
এর আগে ওই পোস্ট দেওয়াই এমএইচ পাটোয়ারী বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পোস্টে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ারকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
কিছু দিন আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্টটি করেন বাবু। পোস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরের ছবি জুড়ে দেন তিনি।
পোস্টে বাবু লেখেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে সাজানো মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিতে বিভিন্ন দেশ ও গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খেয়েছে আসিফ নজরুল, শিশির মনির, তাজুল ইসলাম, বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করে কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ পরিবর্তন করে ইতোমধ্যে অবৈধ ক্যাঙ্গারো কোর্টের অবৈধ প্রসিকিউটর তাজুল পালিয়েছে! যেকোনও সময় অন্যরাও পালিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি আরও লেখেন, ভদ্রবেশি উচ্চশিক্ষিত এই সব ধুরন্ধর জালিয়াতচক্র যদি বিনা বিচারে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তার দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণ বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কেউ আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে নয়। গত ২০ মাস অবৈধ সরকারের অবৈধ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আইনজীবী শিশির মনির, অবৈধ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার এরা বাংলাদেশের বিচার আইন আদালত নিয়ে যে তামাশা করেছে অবশ্যই তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।
সর্বশেষ ওই পোস্টে লাইক পড়েছে ৬ হাজার ৭০০, মন্তব্য করেছেন ১ হাজার ৩০০ ও শেয়ার হয়েছে ১ হাজার ৯০০ বার।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালের আদেশ পেয়ে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়েছে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হোসেন জোহার নেতৃত্বাধীন একটি পুলিশ দল। তবে ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর জোহা।









