‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ সেথা শির’ এই প্রতিপাদ্যে শুরু হওয়া রমনা বটমূলে সম্পন্ন হলো ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া আয়োজন শেষ হয় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানের বিস্তৃতি ঘটে পুরো পার্কজুড়ে। উৎসবে শামিল হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন সবাই। মিলনমেলা ঘটে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের। বাদ যায়নি শিশুরাও। অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিরাও।
সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী পরিবেশনা। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইর গান, লোকগান, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ ও জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান।
এছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ ও প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের গান পরিবেশন করা হয়।
পরিবেশিত হয় মোট ২২টি গান। এর মধ্যে ৮টি সম্মেলক গান, আর ১৪টি একক কণ্ঠের গান। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সর্বশেষ পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত।
দুই বছরের শিশু সন্তান রাইকাকে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সাদিকা আক্তার লাকি নামে এক নারী। তিনি বলেন, প্রতি বছরের এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি। রমনা বটমূলের অনুষ্ঠানের জন্য। কারণ এখানে বাঙালির আবেগের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। বিশেষ করে সুরের মূর্ছনায় বিমোহিত হয়ে যাই। এবার সন্তানকে নিয়ে আসতে পেরে ভালো লেগেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি শাহ আলম। তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যতই বিরোধিতা করুক, রমনা বটমূলে বর্ষবরণ আয়োজনের সঙ্গে বাঙালির অস্তিত্ব মিশে আছে। তাই সব অপপ্রচার অতিক্রম করেই সর্বস্তরের নারী-পুরুষ এখানে ছুটে আসেন।








