২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কথিত গণহত্যার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যদিও আল মামুনকে এ মামলায় আসামি করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের সাজা ঘোষণা করেন। ওই মামলায় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন ছিলেন অন্যতম আসামি। তবে তিনি ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে প্রসিকিউশনকে মামলার পূর্ণ বিবরণ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
সাবেক এই আইজিপি প্রসঙ্গে মামলার রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, ওই সময় তিনি পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থেকে অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন, যা সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য। তবে তিনি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন এবং ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে প্রসিকিউশনকে মামলার পূর্ণ বিবরণ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তাই মামলার তদন্তে ও বিচারে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং একে একটি ‘নমনীয় সাজা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে গত ১৫ এপ্রিল রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার দায়ে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাই তাকে আসামি করা হবে মর্মে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান।
সেদিন তিনি আরও বলেছিলেন, ‘‘আসলে কারা আসামি হতে যাচ্ছেন, তা এখনই প্রকাশ করতে পারছি না। তবে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অনেক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাচ্ছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণ প্রতিবেদন পাবো বলে আমরা আশাবাদী। এ নিয়ে কাজ করছে তদন্ত সংস্থা।’’
এদিকে সূত্র বলছে, ঘটনার সময় সাবেক এই পুলিশ প্রধান জাতিসংঘের মিশনে ছিলেন। সুতরাং শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাকে আসামি করার বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে যাবে।
তবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সময় মিশনে ছিলেন কিনা তা এখনও জানেন না বলে নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি ওই সময় জাতিসংঘ মিশনে ছিলেন কিনা, তা এখনও জানি না। তবে ‘সুপেরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ নীতির আওতায় তার বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, যদি ঘটনার সময় তিনি (সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন) বিদেশে অবস্থান করেও অধস্তন বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন, তাহলে সেখান থেকেও অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রশ্ন উঠতে পারে। এসব কারণে পুরো বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হবে।









