মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:২২ আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:২২

একই পরিবারের বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই এবং এক পুত্রবধূ— মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। এই পারিবারিক চক্রটি অবৈধ মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করে মর্মে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে। সিআইডি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে  ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছরে মোট ৫ কোটি ১৭ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা নিজেদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করেছে মর্মেও অনুসন্ধানে জানা যায়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সারাদেশের বিভিন্ন থানায় এক বা একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। 

সিআইডি কর্তৃক দায়েরকৃত গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪(২) ধারায় মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— মোসা. আসমা, রেশমা খাতুন এবং লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার নামীয় সহোদরা ৩ বোন গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত। তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্য পিতা মো. আব্দুল আওয়াল, মোসা. আসমার স্বামী মো. মানিক মিয়া, লিজা বেগমের স্বামী কামাল উদ্দিন এবং তাদের সহোদর ভাইয়ের স্ত্রী জাহানারা বেগম  (ভাবি) সমন্বয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে ওঠে। 

পারিবারিকভাবে চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা হলেও তাদের ৩ বোনের বিভিন্ন জেলাতে বিয়ে হয় এবং সবাই স্বামী, সন্তান ও পিতা-মাতাসহ সকলকে নিয়ে গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় বসবাস করে। অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশলে অবৈধ মাদকদ্রব্য এনে নিজেরা অথবা স্থানীয় বহনকারীদের মাধ্যমে গাজীপুর জেলাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করতেন। স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ তাদের নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সমূহে লেনদেন করে মর্মে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে। 

অনুন্ধানে আরও জানা যায় যে, অভিযুক্তদের কোনও বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তাদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তারা মানিলন্ডারিং করেছে। প্রাথমিকভাবে ৭৯ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ দিয়ে মাদক ক্রয় এবং নিজেদের ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে মর্মেও অনুসন্ধানে উঠে আসে।

‘অবৈধ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা’ মানিলন্ডারিং অপরাধের একটি সম্পৃক্ত অপরাধ। বর্তমানে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। 

/আইএ/এসটি/ 
সম্পর্কিত
সেই ঘুণ্টিঘরে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫ জনের কারাদণ্ড, জরিমানা ১০০ টাকা করে
ইশরাকের পদত্যাগের পর সেই ঘুন্টিঘরে আবারও মাদকবিরোধী অভিযান
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক
সর্বশেষ খবর
জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার
জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর: গোলাম পরওয়ার
রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী, ভক্তদের উচ্ছ্বাস
রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী, ভক্তদের উচ্ছ্বাস
‘লুপাস’ রোগে ভুগছেন সেলেনা গোমেজ, বদলে গেছে কণ্ঠ
‘লুপাস’ রোগে ভুগছেন সেলেনা গোমেজ, বদলে গেছে কণ্ঠ
সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী
সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির