সাইবার সুরক্ষা আইন: ‘যেই লাউ সেই কদু’

এস এম আববাস
০২ জুন ২০২৬, ০৮:০০আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৮:০০


‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ থেকে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’, এরপর ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’। নাম বদলেছে, একইসঙ্গে বাতিল হয়েছে বিতর্কিত কয়েকটি ধারা। তবে বিতর্কিত ধারাগুলোর অনেক বিষয়ই নতুন আইনের অন্য ধারায় প্রতিস্থাপিত হওয়ায় বাস্তবে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ‘ধর্মানুভূতি’ শব্দটি বাদ গেলেও ‘ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ’, মত প্রকাশ ও অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের মতো বিধান বহাল থাকায় নতুন আইনকে ঘিরে ‘যেই লাউ সেই কদু’ বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৭ ধারার পাশাপাশি সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ৮, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ নম্বর ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। এসব ধারার কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোও এই দাবির পক্ষে সোচ্চার ছিল।

পরে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ রহিত করে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করে। এতে আলোচিত ৫৭ ধারার বিষয়টি বাদ দেওয়া হলেও বিভিন্নভাবে প্রতিস্থাপিত হওয়া কয়েকটি ধারা নিয়েও বিতর্ক ওঠে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯ ও ৪২-সহ একাধিক ধারা বাতিলের দাবি তোলেন সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) তখন আটটি ধারা বাতিল ও চারটি ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৩ সালের ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ রহিত করে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। তবে নতুন এই অধ্যাদেশেও সাংবাদিকদের আপত্তির বেশিরভাগ বিষয়ই নতুন আইনে রয়ে যায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। ২০২৫ সালের ২১ মে জারি করা হয় ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’। যা বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার ১০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কণ্ঠভোটে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ পাস করে।

আগের যেসব বিতর্কিত ধারা রয়ে গেছে

২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৮ ধারা প্রায় হুবহু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে। বরং আরও একটি উপধারা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন যুক্ত করা উপধারা ৫-এ বলা হয়েছে, এই ধারা উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।

২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারার অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় নতুন পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৩ ধারায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি শিরোনাম ছিল। নতুন আইনের ২৫ ধরায় যৌন-হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড শিরোনামে যুক্ত করা হয়েছে।  

২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারা এবং এবং ২৯ ধারার মাধ্যমে যৌন-হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ডের ব্যবস্থা ছিল। দণ্ডবিধির মানহানি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ৪৯৯ ধারায় বিচার্য বিষয় ছিল। সাইবার সুরক্ষা আইনে আলাদা করে এটি করা হয়েছে কঠোরভাবে অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে।

সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ওয়েবসাইট বা কোনও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এইরূপ কোনও তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার, ইত্যাদি সংক্রান্ত ২৮ ধারা বিস্তৃতভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে ধর্মীয় অনুভূতি শব্দ না থাকলেও জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ শব্দ ব্যবহার করে আরও কঠোর করা হয়েছে।  

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত ৩১ ধারার ১ উপধারায় বলা ছিল—“যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এইরূপ কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যাহা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।”

(২) “যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১)-এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। এই ৩১ ধারার অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত বিষয় নতুন আইনের ২২ ধারা, ২৬ ধারায় বিবৃত করা হয়েছে।”
 
২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড সংক্রান্ত ৩২ ধরায় বলা ছিল—‘যদি কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

এই ৩২ ধারা নতুন আইনের ২১ ধারা, ২২ ধারা ও ২৩ ধরায় বিস্তৃত করে অপরাধ ও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আর নতুন আইনের ২৯ ধারায় কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৩৫ ধারায় ছিল।

২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ‘মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, প্রচার, ইত্যাদি’ সংক্রান্ত বিতর্কিত ২৯ ধারায় ছিল—যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে প্যানাল কোড (অ্যাক্ট নং XLV অব ১৮৬০)-এর সেকশন ৪৯৯-এ বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্তরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

বিতর্কিত ২৯ ধারার অপরাধ নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ এবং ২৬ ধারায় বিস্তৃত করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩-এর ২৮ ধারার সংশোধিত রূপ হিসেবে এসেছে সাইবার ‘সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর ২৬ ধারা।

আইনটির ২৬ ধারায় ‘সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশ’-সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, কিংবা ছদ্মপরিচয়ে নিজের বা অন্যের আইডিতে অবৈধ প্রবেশ করে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করলে, যা ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ঘৃণামূলক বা জাতিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যা সহিংসতা, উদ্বেগ, বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেয়, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

উপধারা (২)-এ বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছিল, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত বা উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করে, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধে আঘাত করে, তবে তা অপরাধ হবে।

সেই আইনের উপধারা (২)-এ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান ছিল। একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারার নম্বর বদল হলেও মূল বিষয়টি বহাল রয়েছে। তবে ২১ ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ওই ধারার অপরাধের দায়মুক্তিও দেওয়া হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জে আই খান পান্না বলেন, ‘আমি কোনও সময়ই সাইবার নিরাপত্তা আইনের পক্ষে ছিলাম না। শুধু কিছু ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা প্রয়োজন। কেউ কারও সম্পর্কে অশালীন উক্তি করলে সেটির প্রতিকার অন্য আইনেও সম্ভব। মানহানি মামলার ব্যবস্থাও আছে। সাইবার নিরাপত্তার নামে যেন ব্ল্যাকমেইলিং না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশে যেভাবে সাইবার আইন রয়েছে, সেভাবেই হওয়া উচিত। মূলত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণের একটি পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছিল এসব আইন।’

সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাইবার সিকিউরিটি আইনটিকে আরও জনবান্ধব ও সময়োপযোগী করা জরুরি। যেসব ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত আক্রোশ, অপপ্রচার, চরিত্র হনন এবং সন্ত্রাসবাদী হুমকির মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা প্রয়োজন। বাক-স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি সাইবার অপরাধীদের দমনে প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট ধারা সংযোজন বা আইনি সংস্কারের মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।’

তিনি বলেন, সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনে গ্রেফতারের ধারা স্পষ্ট ও কঠোর করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে।

সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৬ ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বাহাউদ্দিন আল ইমরান বলেন, ‘২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়েছিল। তবে আইন রহিত হলেও আগের মামলাগুলো চলমান রাখা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে আগের আইনের অনেক মামলার কার্যক্রম, রায় বা দণ্ডাদেশ বাতিল হয়নি। বিষয়গুলো রাজনৈতিক কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। আবার ২৬ ধারায় ধর্মানুভূতিতে আঘাত শব্দটি না থাকলেও ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, সে বিষয়ে বিশেষ আইনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। যদিও দণ্ডবিধিতে এ ধরনের বিষয় রয়েছে। বিশেষ আইনে সংবেদনশীল অপরাধের ধরন স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলে অপব্যবহারের সুযোগ কমে। আশা করবো এই ধারার অপব্যবহার কম হবে।’

‘জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করবে সরকার’

সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে আইনের অপব্যবহারের বিষয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)। তিনি তার লিখিত প্রশ্নে বলেন, ‘বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তে সাইবার সুরক্ষা আইন চালু হলেও সাংবাদিক, ব্লগার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে এই আইনের অপব্যবহারের প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্বাধীনতা সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে। এই আইনটি মুক্তমত দমনে ব্যবহার না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে সরকার কোনও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করবেন কি? কী উপায়ে এই আইনের অপব্যবহার রোধের নিশ্চয়তা সরকার প্রদান করবে?

জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর ২৮নং ধারা (মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড) অনুযায়ী সাংবাদিক, ব্লগার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে এই আইনের অপব্যবহার করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার মামলা করতে পারবে।

জাতীয় সংসদে ২৮ ধারাটি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ধারা ২৮-এর (১) অনুযায়ী যদি কোনও ব্যক্তি অন্য কোনও ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোনও ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ দায়ের কবার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ না জেনেও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান, তাহলে তা হবে একটি অপরাধ এবং এর জন্য মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করিয়েছেন ওই ব্যক্তি মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রয়েছে সেই দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই ধারার অধীন সংঘটিত কোনও অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করতে পারবে।

মন্ত্রী আরও জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর ১২ নং ধারা অনুসারে, সাইবার সুরক্ষা বিষয়ে সার্বিক দিকনির্দেশনার জন্য ২৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে উল্লেখ আছে, যার চেয়ারম্যান হবেন সরকারের প্রধানমন্ত্রী।

 

/ইউএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সাইবার সক্ষমতা-দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গতি আনার তাগিদ
সাইবার সুরক্ষা আইন: গুজব ঠেকানো নাকি কণ্ঠরোধ
সাইবার আইন থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে কোটি টাকা জরিমানার ধারা
সর্বশেষ খবর
কাস্টমসের নথি না পাওয়ায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাচার অনুসন্ধানে ধীরগতি
কাস্টমসের নথি না পাওয়ায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাচার অনুসন্ধানে ধীরগতি
বগুড়ায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, খুলছে উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত
বগুড়ায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, খুলছে উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? মেসির ভিডিও ঘিরে রহস্য
ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? মেসির ভিডিও ঘিরে রহস্য
সর্বাধিক পঠিত
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিলেন ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এমপির প্রথম স্ত্রী
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিলেন ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এমপির প্রথম স্ত্রী