মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ জুন ২০২৬, ১৭:৩৮ আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৭:৩৮

মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো, আরিফুল (৩০) ও সানি (২২)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের শফিরকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি দল।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী মানিকের (ছদ্ম নাম) বাবা দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থেকে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। গত ১১ জানুয়ারি বিকালে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, তার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা গ্রহণের জন্য তাকে দক্ষিণখান থানারা জয়নাল মার্কেট এলাকায় যেতে বলা হয়।

মানিক সেখানে গেলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুরের পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

পরে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

সিআইডির বিশেষে পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরদার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশি তৎপরতার বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণকারীরা গত ১২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভুক্তভোগীকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরে-ই বাংলা নগর এলাকায় একটি অজ্ঞাত সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানার মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি গভীর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করে তারা আরিফুল ও সানির অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তদন্তে জানা গেছে, তারা অনেক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকতো। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে পরিকল্পনা করে বাংলাদেশে আসে এবং এই অপরাধ সংঘটনের পর পর আবার মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ আদায় করছিল। সানির বিরুদ্ধে বাঞ্চারামপুর থানায় একটি পুরনো মামলাও রয়েছে।

/এসএনকে/আরকে/
সম্পর্কিত
ওপেনএআইয়ের সভাকক্ষে আড়ি পাতার যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি নাগরিক গ্রেফতার
রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার
রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৬, মামলা ৪৯
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ৯ নেতাকর্মীর মোবাইল ফোন চুরি, থানায় জিডি
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ৯ নেতাকর্মীর মোবাইল ফোন চুরি, থানায় জিডি
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
কক্সবাজারে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: রিসোর্টের মালিক দুজন, আসামি কেন একজন?
কক্সবাজারে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: রিসোর্টের মালিক দুজন, আসামি কেন একজন?
মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য কনস্টেবল, যেভাবে ধরা পড়লেন
মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য কনস্টেবল, যেভাবে ধরা পড়লেন
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত