ছয় শিশুর মৃত্যু

সরকারি প্রতিবেদনকে সঠিক মনে করেন না আদ-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ জুন ২০২৬, ১৯:১২আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ২০:১৮

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিক্যাল হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া সরকারি প্রতিবেদন সঠিক মনে করেন আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। সরকারি প্রতিবেদন ভুল বলছে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে তারা (সরকার) যেটা বলতে চেয়েছে, আকার-ইঙ্গিতে বুঝাতে চেয়েছে, ভেন্টিলেশন কম থাকার ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সেই কারণেই হয়তো ছয় শিশু মারা গেছে। তবে আমরা এখনও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করতে পারিনি।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিক্যাল হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

নিজেদের হাসপাতালে বিভিন্ন সংস্কার কাজ করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ডা. শেখ মহিউদ্দিন। সংস্কার কাজ করলে লাইসেন্স ফিরে পাওয়া বিষয়ে সরকার কোনও আশ্বাস দিয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, না, এমন কোনও আশ্বাসের ব্যপার নেই। এটা আমাদের চলমান কাজ। আমরা কিছু কাজ আগেই শুরু করেছিলাম। যদি ভেন্টিলেশনের বিষয়টি নিয়ে বলি, তাহলে আমরা যখন এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়েছি, তখন দেখেছি যে ভেন্টিলেশনের ক্ষেত্রে কার্বন ডাই-অক্সাইডের যে মাত্রা থাকার কথা...সেই মাত্রা নিয়েই এখনও এক্সপার্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। যারা এক্সপার্ট, তারা মনে করেন না যে, এ কারণেই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে।

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমরা এখনও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করতে পারিনি। একটি শিশুর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করতে শুধু পোস্টমর্টেমই যথেষ্ট নয়। উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আরও অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মৃত্যুর পর বিভিন্ন ধরনের ফরেনসিক পরীক্ষা রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত পোস্টমর্টেমের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু বিদেশে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষা ব্যয়বহুল হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সহায়তা করে। এক দিনে এতগুলো শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত গুরুতর এবং জাতীয় গুরুত্বের একটি বিষয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

এ সময় এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, আমি তার পেছনে টাকা নিয়ে কেন ঘুরবো?  আমি মন্ত্রীর পেছনে কোনও টাকা নিয়ে ঘুরিনি।

৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা হবে কিনা প্রশ্নে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, হ্যাঁ, ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার কথা রয়েছে। আমাদের আবেদনপত্র প্রস্তুত হয়েছে। আশা করছি, আগামীকালই আবেদন করা হবে।

আজ হাইকোর্টে যে রিট হয়েছে, সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করেছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, না, আমরা কোনও রিট করিনি। কেউ হয়তো জনস্বার্থে বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে করে থাকতে পারেন।

আদ্-দ্বীন যে পরিবর্তনগুলো করছে, তা সরকারের নির্দেশনায় হচ্ছে কিনা প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, সরকার আমাদের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আমাদের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে। আমরা প্রতিবেদনে উল্লেখিত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি। এ জন্য নিজস্ব এক্সপার্ট কমিটি গঠন করেছি। 

শেখ মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এক্সপার্ট টিমের মতামতের ভিত্তিতে আমরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছি। আমাদের পরামর্শক দলে রয়েছেন একজন বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তাদের পর্যবেক্ষণে মূল উদ্বেগের বিষয় ছিল ভেন্টিলেশন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা। এই বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং অক্সিজেন পরিমাপের যন্ত্র কিনেছি। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের প্রতিটি রুম পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোনও রুমেই উল্লেখযোগ্য ডেভিয়েশন নেই। তবে বাইরের বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড লেভেলের তুলনায় ভেতরের লেভেল কিছুটা বেশি, যা সাধারণ বাসাবাড়িতেও দেখা যায়। তবে এটি গ্রহণযোগ্য মাত্রার বাইরে নয়। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি যেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বাইরের এটমোসফেরিক লেভেলের কাছাকাছি আনা যায়, যাতে কমফোর্ট লেভেল আরও বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, প্রতিটি ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা প্রতিটি রুমে পজিটিভ এয়ার প্রেসার দিচ্ছি, যাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত বের হয়ে যায়। ইতোমধ্যে আমরা শিশু ওয়ার্ডসহ আরও কয়েকটি ওয়ার্ডের কাজ শেষ করেছি। যে ওয়ার্ডটি কর্তৃপক্ষ সিলগালা করেছে, সেটির চাবিও আমরা চেয়েছি। আজ তারা জানিয়েছে, আমরা আবেদন করলে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে এবং আশা করছি, আগামীকাল চাবি পাওয়া যাবে। এরপর ওই অংশের কাজও সম্পন্ন করা হবে।

হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমাদের ওপরের তলায় যে বেকারি ছিল, সেটি নিয়ে আপনারা জানেন, বেকারির লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনও সমস্যা ছিল না। তারপরও যেহেতু সরকারের আপত্তি রয়েছে, আমরা আপাতত বেকারিটি বন্ধ করে দিয়েছি। বেকারিটিকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরের কাজও শুরু হয়েছে। আপাতত কোনও অস্থায়ী জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে নেওয়া হবে, না হলে স্থায়ী স্থান প্রস্তুত হলে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোগী সরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টার বিষয়ে বলতে গেলে, আমাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্থানত্যাগের কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ৭২ ঘণ্টা শব্দটি বলা হয়নি; বরং যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়েছে। আমরা রোগীদের বলেছি, আপনারা দ্রুত এখান থেকে অন্যত্র চলে যান। আমরা নতুন কোনও বড় রোগীও ভর্তি করিনি। তবে কিছু রোগী আছে, বিশেষ করে আমাদের এনআইসিইউতে, যারা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। তাদের স্থানান্তর করতে গেলে শিশুটির মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণেই আমরা জোর করে তাদের সরিয়ে দিইনি। রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই আমরা ধীরে ধীরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া পরিচালনা করছি।

/এএজে/আরকে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যারা তড়িঘড়ি আমানত ভেঙেছেন, তাদের জন্য নতুন ঘোষণা ইসলামী ব্যাংকের
যারা তড়িঘড়ি আমানত ভেঙেছেন, তাদের জন্য নতুন ঘোষণা ইসলামী ব্যাংকের
আমি মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক
আমি মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
সংগীতাঙ্গনের সবাই আশার আলো দেখছে: হামিন আহমেদ
সংগীতাঙ্গনের সবাই আশার আলো দেখছে: হামিন আহমেদ
সর্বাধিক পঠিত
নির্বাহী প্রকৌশলীকে মন্ত্রী বললেন ‘আপনাকে নিয়ে আগাতে পারবো না’
নির্বাহী প্রকৌশলীকে মন্ত্রী বললেন ‘আপনাকে নিয়ে আগাতে পারবো না’
তিন বাস টার্মিনাল যাচ্ছে ঢাকার বাইরে, কোনটি কোথায়
তিন বাস টার্মিনাল যাচ্ছে ঢাকার বাইরে, কোনটি কোথায়
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার তিন শর্ত জানালেন আইনজীবী শিশির মনির
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার তিন শর্ত জানালেন আইনজীবী শিশির মনির
ডাচদের রুখে দিয়েছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান 
ডাচদের রুখে দিয়েছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান 
চুক্তি সম্পন্ন, আজ রাত থেকেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান: ইরান
চুক্তি সম্পন্ন, আজ রাত থেকেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান: ইরান