বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসকে অনুমেয় কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে। পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ডাচরা। গ্রুপ এফ-এর ম্যাচে তাদের ২-২ গোলে রুখে দিয়েছে জাপান।
বিশ্বকাপ না জেতা সবচেয়ে দল হচ্ছে নেদারল্যান্ডস। তিনবার ফাইনাল খেলেও শিরোপা জিততে পারেনি। অপর দিকে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর থেকে টানা সব আসরে খেলেছে জাপান। ২০২২ সালের আসরেই তারা জার্মানি, স্পেনকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে চমক উপহার দিয়েছিল। ফলে লড়াইটা যে সহজ হবে না তা বোঝাই গেছে। তার পরও প্রথমার্ধে স্পষ্টভাবে আধিপত্য ছিল নেদারল্যান্ডসের। কিন্তু একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও তারা জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির দেয়াল ভাঙতে পারেনি। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারতো ডাচ দল।
বিশেষ করে ম্যালেন ডাচদের হয়ে তৃতীয় মিনিটেই ডান পায়ের শক্তিশালী শটে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু জাপানি গোলরক্ষক সুজুকি দারুণ দক্ষতায় তা কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। এরপর ৩৪ মিনিটে রেইন্ডার্সের কর্নার থেকে হেডে আবারও সুযোগ পান ম্যালেন, এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান সুজুকি।
অন্যদিকে, পুরো প্রথমার্ধে জাপান খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে শেষ দিকে এসে আক্রমণে কিছুটা ধার বাড়িয়েছে। ৪৩ মিনিটে নাকামুরা কাছ থেকে গোল করার সুযোগ পেলেও বলটি পোস্টের কাছ দিয়ে বাইরে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর উয়েদার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবারও ম্যালেনের হেড রুখে দেন সুজুকি।
শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙে বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে। লিভারপুল সতীর্থদের নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় ডাচরা। রেইন্ডার্সের ক্লিয়ার করা ফ্রি-কিকের পর নতুন করে আক্রমণ গড়ে তুলেছিল নেদারল্যান্ডস। তখন ডান প্রান্তে বল পান গ্রাভেনবার্খ। ৫১ মিনিটে ডাচ মিডফিল্ডার অসাধারণ দক্ষতায় বল বাড়িয়ে দেন ভার্জিল ফন ডাইকের দিকে। আর সেখান থেকেই দুর্দান্ত এক হেডে সুযোগ কাজে লাগান নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক।
৬ মিনিট পর সমতা ফেরায় জাপানও। কুবোর নিখুঁত পাসে বল পেয়ে নেদারল্যান্ডস বক্সের ঠিক মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা নাকামুরা অসাধারণ এক ফিনিশিংয়ে গোল করেন। যদিও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৪ মিনিটে জাপানকে আবারও চাপে ফেলে দারুণ এক আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। জাপানের বক্সের ডান দিক থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে জাল কাঁপান সামারভিলে। চোখ ধাঁধানো সেই শটে এবার সুজুকি আর বাধা হতে পারেননি।
দ্বিতীয় গোলের পর জয়ের স্বপ্নই দেখছিল ডাচ দল। উল্টো ম্যাচজুড়ে সেট-পিসে নেদারল্যান্ডসের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল জাপান। কিন্তু শেষভাগে এসে শেষ হাসি হেসেছে তারাই। ৮৮ মিনিটে স্কোরে আনে সমতা। জুনিয়া ইতোর নেওয়া কর্নার থেকে বদলি হিসেবে নামা ইতো নিখুঁতভাবে বল পাঠান বক্সে। সেখানে ওগাওয়া হেডে বলটি সামনে ঠেলে দেন। তার পর কামাদা কাছ থেকে সেটিকে জালে পাঠিয়ে দেন। তাতে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আশা শেষ হয়ে যায় নেদারল্যান্ডসের।









