সুপ্রিম কোর্টে জামায়াত সমর্থিত ৭ ডেপুটি ও ১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স কোর্টের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, সবসময় অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সরকারি অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পোস্টগুলোতে যখনই সরকার পরিবর্তন হয়, তখনই এই আইন কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যান। এটাই নিয়ম।
তিনি বলেন, এটাও দেখেছি (অতীতে), সরকার গঠনের আগে ও নির্বাচন হওয়ার পরেই যখন দেখেছে যে, অন্য দল ক্ষমতায় এসেছে, তখন সরকারদলীয় যারা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ তারা পদত্যাগ করেছেন।
ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আমাদের যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছে, উনারা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন। বেতন নিয়েছেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন। পরে গতকাল উনাদের মনে হলো, এখন আসলে পদত্যাগ করা দরকার অথবা রিমুভ হবেন, এ জন্য উনারা রাজনৈতিক কিছু বিষয় নিয়ে এসেছে যেটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। উনাদের এই বক্তব্যটা পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, যেটা আমরা প্রত্যাশা করিনি তাদের কাছ থেকে।
তিনি আরও বলেন, এখন আমি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে বলতে চাই, এই চার মাস যে উনারা কাজ করলেন, তারা সরকারের পক্ষে কাজ করেছে? নাকি সরকারের বিপক্ষে স্যাবোটাজ করেছে? এই চার মাসের যতগুলো ফাইল ছিল, সবগুলো ফাইল যেন উনারা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখেন। কারণ সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধা সব নিয়ে পদত্যাগ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সরকারের স্বার্থরক্ষার জন্য কাজ করেছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি। কাজেই সরকারের বিরুদ্ধে মনে হয় কাজ করেছে, এ জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তারা এনেছেন; যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৩ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।
পদত্যাগকারী সাত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন– ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।
১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন– ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির, রেজাউল ইসলাম ও জাকির হোসেন।









