মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের চাহিদা পূরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিসম্পদ খাতের পণ্য রফতানি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রফতানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে ত্বরান্বিত হবে সামগ্রিক উন্নয়ন।
রবিবার (২৮ জুন) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং এগ রফতানি কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি খাতকে রফতানিমুখী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তার দূরদর্শী নির্দেশনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতও ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী রফতানিমুখী খাতে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, আজকের এই রফতানি কার্যক্রম সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি দেশের রফতানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, বাংলাদেশ যখন নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে বিদেশে পণ্য রফতানি করতে সক্ষম হয়, তখন তা দেশের সক্ষমতার প্রতিফলন। এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম নয়; বরং দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই রফতানির পরিধি আরও বাড়বে। বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর একটি রফতানিমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রাণিসম্পদ খাত গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মামুন হাসান জানান, বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মস লিমিটেড প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় ১০ হাজার ৪৪০টি প্যারেন্ট হ্যাচিং এগ রফতানি করছে। রফতানি করা এ চালানের মূল্য ১৮ হাজার ৭২৯ মার্কিন ডলার।
তিনি জানান, রফতানি করা ডিমগুলো ‘রস ৩০৮ ব্রয়লার’ জাতের প্যারেন্ট হ্যাচিং এগ। বর্তমান সরকারের সময়ে এটিই দেশের প্রথম হ্যাচিং এগ রফতানি চালান।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন– প্রাণিসম্পদ অধিদফতারের উপপরিচালক ডা. সাখাওয়াত হোসেন, উপপরিচালক ডা. শারমিন সামাদ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের ইনচার্জ ডা. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জিশান হাসান ও কাজী জাহিন হাসান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (পোলট্রি ব্যবসা) গাজী এম শামসুদ্দিন এবং মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আবু কাউসার মো. সালেহ।









