আগামী ২০-২৫ বছর পর ঢাকা মেডিক্যালকে দক্ষিণ এশিয়ার চিকিৎসা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির আগামী অধ্যায় শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতা হবে না; হবে নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’ এর উদ্বোধন শেষে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক, ইন্টার্নশিপ ও কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন ডা. জুবাইদা। তিনি জানান, বহুদিন ধরে একটি আর্তনাদ তার কানে ধ্বনিত হয়। সেটি ছিল এক রোগীর পরিবারের সদস্যের। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়া ওই রোগীর সঠিক রোগনির্ণয়ে তাদের ওয়ার্ডের সবাই ব্যর্থ হয়েছিলেন। কারণ সেদিন সিটি স্ক্যান মেশিন অকেজো ছিল। শত চেষ্টা করেও লোকটিকে বাঁচানো যায়নি।
ডা. জুবাইদা রহমান জানান, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষে এবং পরে ইন্টার্নশিপে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কাজ করার সময় বহুবার তিনি এমন অসহায়ত্ব প্রত্যক্ষ করেছেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক না কেন, এর কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস’ হিসেবে গড়ে উঠার প্রত্যাশা করেন তিনি।
পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকালে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দুই চোখ অন্ধ একটি ছোট শিশু, যে টেট্রালজি অব ফ্যালট (হৃদপিণ্ডের জন্মগত ত্রুটি) রোগে আক্রান্ত ছিল, কেমন করে যেন সে বুঝতে পারতো তিনি সামনে দাঁড়ালে। শেষ পর্যন্ত অপারেশনের টেবিলে শিশুটিকে হারাতে হয়েছিল।
আরেকটি স্মৃতির কথা তুলে ধরে জুবাইদা বলেন, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় (বিরল ও গুরুতর রক্তের রোগ) আক্রান্ত এক গৃহকর্মী যন্ত্রণায় চিৎকার করতেন। তাই অন্য রোগীদের অনুরোধে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাকে বারান্দায় স্থানান্তর করা হতো।
চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার কথা উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, একটি আশ্বস্ত করার বাক্যও ওষুধের মতো কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি জ্ঞান হলেও চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তি মানবিকতা।
তিনি বলেন, ঢাকা মেডিক্যালের শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত থাকলেও তাদের পরিচয়ের শিকড় একটাই– ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এখন সময় এসেছে অ্যালামনাইকে শুধু স্মৃতির বন্ধনে নয়, দায়িত্বের বন্ধনে যুক্ত করার।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামোয় নয়, তার মানুষের মধ্যে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মেধা, তার মূল্যবোধ ও তার মানুষ। প্রতিযোগিতার মধ্যেও সহযোগিতা সম্ভব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিটি সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন একজন মানুষ, একটি পরিবার ও একটি জীবন। ‘৮১তম ডিএমসি ডে-২০২৬’ এ অংশ নিতে পেরে নিজেকে গর্বিত ও আনন্দিত বলে জানান তিনি।









