ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ মিজানুর রহমান এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় সংগঠনটি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত’।
পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নানাভাবে হয়রানি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। কোথাও শিক্ষকদের শারীরিক বা মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, আবার কোথাও চাকরিচ্যুতি ও পদাবনতির মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা, ভিন্নমত ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক মত বা অবস্থানের কারণে শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার ক্ষুণ্ন হলে ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভক্তি আরও বাড়তে পারে।
বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আজমল হোসেন ভূঁইয়াসহ কয়েকজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবীব হেলাল ও অধ্যাপক ডা. সুবাস দেসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক-চিকিৎসকের চাকরিচ্যুতি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলামসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির দাবি, এসব ক্ষেত্রে গঠিত কয়েকটি তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ বলেছে, শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষিবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক বা প্রতিহিংসাপরায়ণ ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে সম্প্রীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ জামাল।









