রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম। একইসঙ্গে সড়ক ও পানিনিষ্কাশনের মুখে ময়লা-পলিথিন না ফেলতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার মান মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
আব্দুস সালাম বলেন, ছোট কাপ চা বা কফি খেয়ে অনেকে সেগুলো ও পলিথিন রাস্তায় ফেলে দেন। এসব ময়লা পানিনিষ্কাশনের মুখ বন্ধ করে দেয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেগুলো পরিষ্কার করার পরপরই পানি চলাচল শুরু হয়। সবাই সচেতন না হলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ফুটপাতে যারা বসেন, তাদের উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে নিজেদের জায়গা পরিষ্কার রাখার জন্য তাদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। শহীদ মিনারের কর্নারে ফুটপাতে অনেকে ব্যবসা করেন। তাদের কোনও বাধা দেওয়া হয় না। কিন্তু বারবার বলা হচ্ছে, কাপ বা পলিথিন রাস্তায় না ফেলতে।
‘কেউ কারও কথা শুনে না। তো এখন তো এর জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে উচ্ছেদ করতে হয়। তখন আবার আপনারাও বলেন, অনেকে বলে যে আবার উচ্ছেদ কেন হচ্ছে? এই বিষয়গুলো যদি তারা ভালোভাবে না শোনে, তাহলে তো ফাইনালি ক্লিন করতেই হবে।’
হকারদের বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাস্তায় কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে ফুটপাতে কিছু কিছু জায়গায় তাদের বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ফুটপাত বড়, সেখানে এক পাশে হকার বসলে অন্য পাশ দিয়ে পথচারীরা হাঁটতে পারেন—এমন জায়গায় তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রাস্তায় হকার বসতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বারবার বলা হচ্ছে এবং বিষয়টি প্রচারও করা হচ্ছে। আগামীকাল হকারদের নেতাদের ডেকে চূড়ান্তভাবে আলোচনা করা হবে। এর আগেও তাদের বলা হয়েছে। আগামীকালের আলোচনার পর অনেকটা ‘অ্যাকশনে’ যাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকবে না।
জলাবদ্ধতার বিষয়ে আব্দুস সালাম বলেন, ‘আজকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এটার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ড্রেনেজগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পানি নিষ্কাশনে তো সময় লাগবে।’
তিনি বলেন, এর আগেও ওই এলাকায় পাম্প লাগিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। এবারও পাম্প লাগাতে হয়েছে। নিউ মার্কেট ও গ্রিন রোডেও একই অবস্থা। সেখানেও পাম্প লাগিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নিউ মার্কেট, এই এলাকা ও গ্রিন রোডে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের যে ব্যবস্থা করা হচ্ছে, সেটি এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে পানি একদম বুড়িগঙ্গায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য টেন্ডার করা হয়েছে এবং কাজ শুরু হচ্ছে।
‘দেখা যায়, আর কয়েকটা দিন কিছুদিন একটু ভোগান্তি হবে। তো এর মধ্যে আমরা চেষ্টা করব যে যে জায়গায় পানি জমে যাচ্ছে, পাম্প করে যাতে সেগুলো আমরা ক্লিন করতে পারি।’









