রাজধানীর বিমানবন্দরের সামনের সড়কের চলন্ত ফুট ওভারব্রিজটি সচল হয়েছে। পার হচ্ছেন পথচারীরা। এছাড়া বনানীর চলন্ত ফুটওভার ব্রিজটিও সচল রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেলো এমন দৃশ্য। ডিএনসিসি বলছে, চলন্ত ফুট ওভারব্রিজগুলো মাঝেমধ্যে বিকল হয়ে পড়লে সেগুলো মেরামত করে সচল করা হয়।
গত ১৮ জানুয়ারি বিমানবন্দরের সামনের সড়কে অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চলন্ত ফুট ওভারব্রিজটির দুটি চলন্ত সিঁড়ি বিকল দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, মাঝেমধ্যেই সিঁড়ি দুটি বিকল হয়ে পড়ে। তখন ব্রিজের দরজায় তালা দিয়ে রাখে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি ‘আগেরগুলো বিকল, নতুন প্রকল্পে আরও ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন।
ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাঝেমধ্যে সমস্যা করলে আমরা আবার ঠিক করে দেই। বিমানবন্দরের সামনের ফুট ওভারব্রিজটি মেরামত করা হয়েছে। এখন সবগুলো সচল।’ ফুট ওভারব্রিজগুলো বিকল হওয়ার তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে ডিএনসিসিকে যেন জানানো হয়, সে জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
২০১৯ সালের মার্চে প্রগতি সরণিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের পর নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক পারাপারের জন্য চলন্ত সিঁড়িসহ ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৬টি চলন্ত সিঁড়ি যুক্ত করে নতুন করে ৮টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এছাড়া আরও ৩৬টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করার কথাও বলা হয়। এ জন্য ৩১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। প্রকল্পে ১৬টি এসকেলেটর যুক্ত ৮টি ফুট ওভারব্রিজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।
গত ৩ জানুয়ারি ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্পের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘কোনও ফুট ওভারব্রিজ বন্ধ রাখা হবে না। চলন্ত সিঁড়ি যুক্ত নতুন ব্রিজগুলো বাইরের পরিবেশ উপযোগী করে স্থাপন করা হবে, যাতে ধুলাবালি পড়লেও কোনও সমস্যা না হয়।’
ডিএনসিসির এক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ‘আগে যে দুটি সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো বাইরের উপযোগী নয়। ফলে ধুলা ও বৃষ্টির পানিতে প্রায়ই নষ্ট হয়ে পড়ে। নতুন যেগুলো লাগানো হবে সেগুলোর এই সমস্যা হবে না। ঠিকাদারের মাধ্যমেই এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।’








