করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশে ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এমন ঘোষণার পর নগরীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ দুদিনে কয়েক লাখ মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন।
শনিবার (৩ এপ্রিল) ও রবিবার (৪ এপ্রিল) নগরীর বাস টার্মিনালগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। একইভাবে ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কর্তৃপক্ষ সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রীদের এমন ভিড়ে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন তো দূরের কথা সব আসনে যাত্রী নিয়েও দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছে পরিবহন মালিকরা।
নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানী ছাড়া এসব মানুষের সিংহভাগই নিম্ন, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। তারা জানিয়েছেন, করোনার প্রথম লকডাউনে এসব শ্রেণির মানুষের বেশির ভাগই কর্ম হারিয়েছিলেন। তখন অনেকেই লকডাউনে আটকা পড়ে বাড়ি ভাড়াও দিতে পারেননি। এ অবস্থায় এবারের লকডাউনে তাই আগেভাগেই অনেকেই রাজধানী ছেড়েছেন।
নগরীর খিলগাঁও রেল গেট সংলগ্ন শান্তিপুরের একটি টিনশেডের বাসায় বসবাস করেন আসমা আক্তার। স্বামী, দুই বোন ও তিন ভাইয়ের পরিবারসহ তারা সবাই পাশাপাশি বসবাস করতেন। কিন্তু লকডাউন ঘোষণার পর শুধু আসমা আক্তারের পরিবার ছাড়া তার বাকি আত্মীয়-স্বজনরা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
বাড়ি যাওয়ার জন্য পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে কমলাপুর রেল স্টেশনে এসেছেন রাজশাহীর বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন। তিনি রাজধানীর মৌচাকের একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। লকডাউনে সরকার সব দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করায় গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
রবিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে কথা হয় গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোকানে চাকরি করার কারণে তেমন একটা ছুটি পাই না। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকার সুযোগে সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাড়ি থেকে ঘুরে আসবো। তাছাড়া ব্যবসার যে অবস্থা মালিক আর রাখে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। সে কারণে পরিবার নিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে ঢাকা ছাড়া মানুষের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের। তাদের অনেকেই খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায়ী। করোনার পাশাপাশি লকডাউনের কারণে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাছাড়া উপার্জনে সক্ষম ব্যক্তিদের অনেকেই ঢাকা থাকলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত দুদিনে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। যারা ঢাকা ছাড়ছেন তাদের অনেকেই ছোটখাটো ব্যবসায়ী। তবে অনেকেই নিজেদের পরিবার পরিজনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে একাই ঢাকা রয়েছেন।









