কোন দোকান বন্ধ থাকবে আর কোন দোকান খোলা যাবে না সে নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকার কারণে রাজধানীতে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের প্রথম দিনে বেশিরভাগ এলাকার দোকান খোলা ছিল। তবে বড় বড় শপিং মল ও মার্কেটগুলো বন্ধ ছিল।
মিরপুর রোকেয়া সরণি, মিরপুর-১, শ্যামলী, কলাবাগানের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছবি বাঁধাইর দোকান থেকে শুরু করে পর্দা, হার্ডওয়্যার, স্যানিটারির দোকান, মোটর গ্যারেজ সবই খোলা। দোকানিরা বলছেন, তাদের কেউ বলেনি যে দোকান খোলা রাখা যাবে না। তাই তারা দোকান খোলা রেখেছেন এবং এ বিষয়ে তারা কাউকে কৈফিয়ত দেবেন না।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। যার একটি ধারায় লেখা, শপিং মলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দোকানগুলো পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কোনও ক্রেতা সশরীরে যেতে পারবে না। এর আরেকটি জায়গায় উল্লেখ আছে, কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। কিন্তু হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে পর্দার দোকান খোলার কোনও সুযোগ নেই।
শ্যাওড়াপাড়া এলাকায় পাশাপাশি দুটো হার্ডওয়্যারের দোকানে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কেউ কোনও নির্দেশনা দেয়নি। তবে সরকারি নির্দেশনা পড়ে তারা যেটুকু বুঝেছেন দোকান বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। মিরপুর-১-এর বেশ কয়েকটি মার্কেট কেন্দ্রীয়ভাবে বন্ধ থাকলেও প্রিন্স বাজারের আশপাশে বেশ কিছু বড় বড় দোকান খোলা। কয়েকটি দোকানে নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চেয়ে রীতিমতো হয়রানির শিকার হতে হয়। তাদের কেউ বলেন, দোকান খুললে সাংবাদিকের কী, দোকান খোলার কৈফিয়ত কেন দিতে হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন উর রশিদ জানান, সন্ধ্যা ৬টা থেকে দোকানপাট বন্ধে পুলিশ কাজ করছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্দেশটা বন্ধের। কিন্তু দোকান মালিকদের মানানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমি তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, সব খুলে রেখে দোকান বন্ধ কেন? আমরা কী অন্যায় করেছি? বইমেলা থেকে শুরু করে গার্মেন্টস সব খোলা, কেবল দোকান বন্ধ। সামনে ঈদের সময়। ব্যবসা তো করতে দিতে হবে। আমরা যথেষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব সময় দোকান করেছি।








