ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মহাখালী করোনা হাসপাতালের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৭০ লাখ টাকা আসে। কিন্তু সেই অর্থ মওকুফ ঘোষণা করেছেন সংস্থার মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। সোমবার (৩ মে) মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি লাশবাহী গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
মেয়র বলেন, ‘ডিএনসিসি এই মার্কেটে ২৫৮টি দোকান বরাদ্দ দিয়েছিল। এ থেকে রাজস্ব পেতো ডিএনসিসি। কিন্তু আমার স্বপ্ন ছিল এটিকে একটি হাসপাতালে রূপান্তর করা। সেজন্য আমরা বোর্ড সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখানে কোনও দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে না। বরং যে দোকানগুলো আছে তাদের বরাদ্দ বাতিল করবো। আমরা ম্যাসেজ দিতে চাই, মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর জন্য ডিএনসিসি ২৫৮টি দোকান বরাদ্দ দিয়ে তা বাতিল করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা বদনাম আছে। মেয়র-কাউন্সিলররা শুধু দোকান বরাদ্দ দেয়। গতকাল আমি বরাদ্দপ্রাপ্তদের ২৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। তাদের টাকা ফেরত দিচ্ছি। কিন্তু তারা নিতে চাচ্ছেন না। হাসপাতাল উদ্বোধনের দিন ১১ জন বরাদ্দপ্রাপ্ত মামলাও করেছিলেন। সেটাও আমাকে মীমাংসা করতে হচ্ছে। আজ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হচ্ছে আমাদের বড় কাজ।’
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি জায়গাটি দেখেই বলেছি, এতো সুন্দর জায়গায় একটি হাসপাতাল হওয়া দরকার। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ যখন ভাগ হয়েছে তখন দক্ষিণে দু’টি হাসপাতাল পড়েছে। কিন্তু আমাদের কোনও হাসপাতাল নেই। তখন থেকেই আমার স্বপ্ন এটাকে হাসপাতালে রূপান্তর করা।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘আমরা আইসিইউর জন্য কোনও অর্থ নিচ্ছি না। এটা আমাদের নগরবাসীর জন্য বার্তা। আমরা আজ দু’টো অ্যাম্বুলেন্স ও একটি লাশবাহী গাড়ি বিনামূলে দিলাম। এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যতো খরচ সেটাও আমরা দেবো।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের এক লাখ ৮৫ হাজার স্কয়ার ফিটের যে ভবন রয়েছে এই বিল্ডিংয়ের ভাড়াও থাকতে হবে। এই এলাকায় প্রতি স্কয়ার ফুট জায়গার ভাড়া হচ্ছে ৩২ টাকা। এ হিসেবে প্রতি মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আমাদের ৭০ লাখ টাকা দিতে হবে। আমি মনে করি আমাদের বর্তমানে কাজ হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়া। সেবার কোনও বিকল্প নেই। তাই এই হাসপাতালের যে ভাড়া রয়েছে তাও আমরা মওকুফ করে দিলাম। বিপদের সময় যেন আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি এটাই আমাদের ব্রত হওয়া উচিত।’







