বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রয়াত হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফীর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শফীপন্থীরা। বুধবার (২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে দেশের সব হিফজ-মক্তব মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মুহাদ্দিস মাওলানা নুরুল ইসলাম জাদিদ। তিনি আহমদ শফী হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের ও উস্কানিদাতাদের গ্রেফতার ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
আল্লামা আহমদ শফীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা মনে করি শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে পরিকল্পিতভাবে শহীদ করে বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা এবং হেফাজতে ইসলামকে একটি চিহ্নিত মহল তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এসবের নেতৃত্বে মূলত হেফাজতের গুটিকয়েক নেতা এবং চিহ্নিত কিছু চরমপন্থী রয়েছে। হাটহাজারী মাদ্রাসায় আন্দোলনের নামে আল্লামা শফীর রুম ভাঙচুর এবং তার ওপর মানসিক চাপ, অসৌজন্যমূলক আচরণ, মেডিসিন নিতে বাধা প্রদান, তার চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটানো- এসবই ছিল তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
দাবিগুলো হলো, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে শাহ আমদ শফীর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ রহস্য উদঘাটন করে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। শফীর পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলা তদন্তপূর্বক অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা। শফীর পরিবারের সদস্যদের ও তার অনুসারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যারা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। আহমদ শফীর রেখে যাওয়া সব দ্বীনি ও সামাজিক অঙ্গনগুলো থেকে তার বিরোধীদের অপসারণ করা।
সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে হেফাজতের শফী কমিটির সাবেক সাহিত্য সম্পাদক নূরুল ইসলাম জাদীদ বলেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফী অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলায় পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
শফী হত্যা মামলায় জুনায়েদ বাবুনগরীর গ্রেফতার চান কী না জানতে চাইলে হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আমরা গ্রেফতারের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে পরিষ্কার করেই বলেছি। আমরা বলেছি, যারাই এই হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসছে তাদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করছি। এ ছাড়া যাদের নাম আসেনি কিন্তু আমরা জানি তারা উস্কানিদাতা ও এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আমরা মনে করি, পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনে যা এসেছে সেটাই বাস্তব। এই তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে আসু ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য।’
হেফাজতে ইসলামের শফিপন্থীরা এতদিন নিশ্চুপ ছিলো কেন জানতে চাইলে ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আমরা কখনই নিশ্চুপ ছিলাম না। আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছি। এখন যে কিশোর গ্যাংয়ের কথা শোনা যায়, তাদের একটি গ্যাং যদি এলাকায় পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তার অর্থ কি সব মানুষ তার সঙ্গে? এর অর্থ হলো পেশীশক্তি ব্যবহার করে কিছুক্ষণের জন্য তাদের অবস্থান মজবুত করেছে।’
আনাস মাদানীর হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব পদে পূর্ণ বহালের বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আনাস মাদানী যে দায়িত্বে ছিলেন তাকে সেই দায়িত্ব থেকে আব্যাহতি দেওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না এবং আইনগত কোনও বৈধতাও ছিল না। যা করা হয়েছে সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। তার সঙ্গে একটা জুলুম করা হয়েছে। কারণ সেখানে (হাটহাজারী মাদ্রাসার) যে মজলিশের সুরার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিত অপরিহার্য। দুইজন সদস্য মিলে ১৩ জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, বৈধও নয়। সুতরাং আনাস মাদানী সেখানে পুনর্বহালের কোনও প্রশ্নে নেই। কারণ তিনি তো সেখানে আছেনই। তবে শারীরিকভাবে সবসময় উপস্থিত নাও থাকতে পারেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আহমদ শফীর শ্যালক মাইনুদ্দিন, ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানী, মধুপুরী পীর মাওলানা আবদুল হামিদ, মুফতি ফয়জুল্লাহসহ হেফাজতের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









