রাজধানীর ৫৩টি এলাকাকে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পানি নিষ্কাশনের অধিকাংশ চ্যানেল না থাকা কিংবা অকার্যকর হয়ে পড়ায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি। আগামী বর্ষায় এই পরিকল্পনা পুরোপুরি সুফল পাওয়ার আশ্বাসের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো মধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের কারণে অনেকাংশে জলাবদ্ধতা কমেছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ। সেসব এলাকার তালিকাও প্রণয়ন করা হয়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে- ধানমণ্ডি ২৭, গ্রিন রোড, নিউ মার্কেট, পলাশীর এসএম হল, মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগ, চাঁনবাড়ি রোড, খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নতুন লুপ, নটরড্যাম কলেজের গেট সংলগ্ন এলাকা, আজিমপুর মোড় ও জিগাতলা প্রধান সড়ক।
অপরদিকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে নগরাসীকে মুক্তি দিতে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ডিএসসিসি। এলাকাগুলো হচ্ছে- মগবাজার ফ্লাইওভারের হলি ফ্যামিলি অংশ, মগবাজার-মৌচাক, কাঠাল বাগান, ফকিরাপুল মোড- আরামবাগ পাম্প, গুলবাগ শান্তিবাগ, লালবাগ রোড, কাজী আলাউদ্দিন রোড, আগা সাদেক রোড, আবুল হাসনাত রোড, সিদ্দিক বাজার রোড, আলু বাজার রোড, আগামাছি লেন, নাজিরা বাজার, বঙ্গভবনের দক্ষিণ গেট, বিবির বাগিচা, যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার ও জুরাইন কবরস্থান সংলগ্ন এলাকা।
এছাড়া জলাবদ্ধতা প্রবণ যেসব এলাকার সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সেই এলাকাগুলো হচ্ছে- নিউ মার্কেট- ঢাকা কলেজের সামনে, গুলিস্তান সিনেমা হলের সামনে, লালবাগের নারকেল বাড়ি এলাকা, সোবহানবাগ কলোনির ভেতর, মুদগা হাসপাতালের সামনে, নটরড্যাম কলেজের অপর পাশ, গেন্ডারিয়ার ঢালকা নগর, সুতি খালপাড় রোড ও রোজগার্ডেন এলাকা।
জানতে চাইলে ডিএসসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মো. খায়রুল বাকের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের এলাকায় ৫৩টির মতো স্থান চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা কমানো হয়েছে। বাকিগুলোতে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা তিন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। প্রথম স্বল্পমেয়াদি, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করে জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সফলতাও দেখা যাচ্ছে। আর মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আশা করি জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসী মুক্তি পাবে।









