সোমবার (২৮ জুন) থেকে কঠোর লকডাউনের যাচ্ছে সারাদেশ। এই লকডাউনকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নিম্নআয়ের। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন উপায়ে গন্তব্য যাত্রা করছেন তারা। এজন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সকাল থেকে নগরীর প্রবেশপথগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সকালে সায়েদাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও নানান কায়দায় ঢাকা ত্যাগ করছে মানুষ। লোকাল গণপরিবহন যুগের রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ শনিরআখড়া ও সাইনবোর্ড গিয়ে নামছেন। সেখান থেকে চেকপোস্ট পার হয়ে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করেন। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাইক্রোবাস, মোটরবাইক, লেগুনা, সিএনজিতে যাতায়াত করছে। এজন্য ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা।
লকডাউনের কথা শুনে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে চলে যাচ্ছেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মচারী রফিক উদ্দিন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লকডাউন শুরু হয়েছে। অফিস বন্ধ থাকবে। কবে খুলবে জানি না। অফিসকে জানিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে বের হয়েছি।
কীভাবে যাবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শুনেছি শনিরআখড়ার পর থেকে মাইক্রোবাস চলে। সেখানে জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছে এক হাজার টাকা। তা ছাড়া পথ ভেঙে ভেঙেও চলে যেতে পারবো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাইনবোর্ড-গুলিস্তান সড়কের সাইনবোর্ড’র অংশে পুলিশের একটি চেকপোস্ট রয়েছে। তাতে রাস্তা বন্ধ বলে পুলিশের একটি স্টিকার যুক্ত ব্যারিকেড রয়েছে। সেখান থেকে কিছু দূরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে রয়েছে। এসময় ঢাকা-কেরাণীগঞ্জগামী ঠিকানা, রজনীগন্ধা, মঞ্জিল এক্সপ্রেস, শ্রাবণ, ইকবাল ও অনাবিলসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাস চলাচল করছে।
একই চিত্র দেখা গেছে নগরীর গাবতলী, মহাখালী ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। গাবতলী থেকে পায়ে হেঁটে আমিন বাজার ব্রিজ পার হয়ে বিভিন্ন পরিবহন যোগে ঢাকা ছাড়ছেন তারা। ভাড়াও গুনতে হচ্ছে কয়েকগুন। গাবতলীর আমিন বাজার এলাকা থেকে উত্তর বঙ্গগামী বিভিন্ন মাইক্রোবাস ও মোটরবাইকে যাচ্ছে। এসময় ৬ সিটের বাসে ১০ জন করে লোক পরিবহন করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য একটি হায়েস গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ভাড়া জনপ্রতি ১৫০০ টাকা। ১১ সিটের গাড়িতে মুহূর্তেই ফিলাপ হয়ে যায়। আব্দুল্লাহপুর এলাকারও একই খবর পাওয়া গেছে।









