সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর উত্তরাধিকারে বৈষম্য দূর করার দাবি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৬ জুলাই ২০২১, ২০:২২আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ২১:০৬

স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের বিষয়টি বিদ্যমান আইন ও বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) আইনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এফএলএডি)।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যে বাংলাদেশ হবে সাম্য ও সমতার। একাত্তরে সবাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আক্রান্ত হয়েছিলো। ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে বা অন্য সকল ক্ষেত্রেই আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা দেখেছি। আমাদের (হিন্দু) নারীরা সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। অথচ সবার কষ্টের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও হিন্দুদের সম্পত্তি প্রত্যর্পনের ক্ষেত্রে আইনের পূর্ন ব্যবহার হলো না। বারবারই আমরা ভূমি বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। এখনও আমরা হামলা থেকে নিষ্কৃতি পাইনি। নির্যাতনের শিকার হয়ে পুরুষরা পালিয়ে যান, নারীরাও নির্যাতনের শিকার হন কিন্তু কিছু বলতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি আমাদের দেশের মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা উচিৎ ছিলো। কিন্তু তারা হিন্দু নারীদের অধিকার আদায়ের বিষয়ে চুপ থাকে। মনে রাখতে হবে, চোখ বন্ধ রাখলেই প্রলয় বন্ধ হবে না। আমরা হিন্দুরা নারীদের দেবতার আসনে মান্য করি। কিন্তু যখন সম্পত্তি ভাগের কথা আসে তখন আমরা কার্পন্যতা দেখাই।

রানা দাশ গুপ্ত বলেন, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইনের বিষয়ে আমাদের ভাবার সময় এসেছে। নিবন্ধন সুবিধা না থাকায় অনেকেই বিদেশ যাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে বাধাপ্রাপ্ত হন। তাই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রয়োজনে এ বিষয়ে কাজ করা জরুরি। কেননা আমাদের যেতে হবে বহুদূর, কিন্তু একসঙ্গে সব জায়গায় হাঁটলে চলবে না।

এসময় তিনি হিন্দু কন্যাদের উত্তরাধিকারত্ত্ব ও নারীদের সমতা আনয়নের সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে এবং বৈষম্য ও অসমতা দূর করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানান।

এফএলডি’র সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে। আমাদের দেশীয় আইন ও সংবিধানেও ধর্ম নিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের বিষয়টি বিদ্যমান আইন ও বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় সর্বদাই উপক্ষিত থেকে গেছে। তাই আমাদের এর পেছনের কারণগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।

এফএলএডি’র আইন ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন‑ অ্যাডভোকেট মলয় সাহা, অ্যাডভোকেট তাপস পল, প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল, কমল দেবনাথ, মিলন দত্ত, মঞ্জু দে প্রমুখ।

/বিআই/এমএস/
সম্পর্কিত
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি