বড় ভাই আব্দুল আজিজ ও ছোট ভাই মো. আসাদ। তাদের একটি খাবারের হোটেল রয়েছে, নাম ‘আসাদ নাস্তাঘর’। চকবাজারের হোসনী দালান এলাকায় বেশ জনপ্রিয় দোকানটি। এ ছাড়া দুই ভাইয়ের মধ্যে ভালোবাসা, মিল-মহব্বতের কথাও এলাকার সবার জানা।
তাদের এমন ভালোবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্যানসার। আসাদের বড় ভাই আজিজ ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে অপারেশন হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল (শনিবার) বিকাল ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর খবর আসে ছোট ভাই আসাদও পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। জানা গেছে, রবিবার জোহরের নামাজের পর বড় ভাই আজিজের জানাজা শেষ হওয়ার পর পরই বুড়িগঙ্গা নদীতে পাওয়া যায় ছোট ভাই আসাদের মরদেহ।
এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, দুই ভাই মিলে ছোট থেকেই একসঙ্গে ব্যবসা করতেন। তাদের মধ্যে ছিল চরম ভালোবাসা। ঠিক তেমনি এলাকার মানুষও ভালোবাসতেন দুই ভাইকে।
তাদের মামা মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘বড় ভাই বাঁচবে না, এমনটা আগেই জেনে ছিল আসাদ। কাউকে কিছু না বলে আজ ভোরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। জোহরের নামাজের পর আজিজের জানাজা শেষ হওয়ার পর পরই খবর পাই, বুড়িগঙ্গা নদীতে আসাদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, আজিজ দুই সন্তানের জনক। তার ছোট ভাই আসাদ এক সন্তানের জনক ছিলেন।
সদরঘাট নৌ-থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আসাদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, আসাদের বড় ভাই আব্দুল আজিজ ব্লাড ক্যানসারে মারা গেছেন। আর সে সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। স্বজনদের ধারণা, ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে আসাদ বাবুবাজার ব্রিজের ওপর থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়ার পর ডুবে মারা যেতে পারে।









