বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’র বিশেষ বিধানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি বাল্যবিয়েকে সমর্থন করে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র। তাই বিশেষ বিধানটি বাতিলসহ বাল্যবিয়ে বন্ধের দাবিতে সোমবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের বক্তব্য, “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে রোধ করতে হবে। কিন্তু বাল্যবিয়ের প্রধান কারণ আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা। এগুলো দূর না করে সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮’র নিচে রাখতে টালবাহানা করছে।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘করোনার ভয়াবহ পরিণতি মেয়েদের ওপর কী ভয়ংকর প্রভাব ফেলেছে তা গত কয়েকদিনে পত্রিকায় প্রকাশিত বাল্যবিয়ের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। মহামারিতে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার কারণে ৯টি জেলায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাল্যবিয়ে হয়েছে। সারাদেশে এই সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি।’
সংগঠনের নেতারা যোগ করেন, ‘করোনাকালে নারী নির্যাতনের হার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এমন পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব নারীকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিকসহ সবদিক থেকে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নারীরা রাষ্ট্রীয়ভাবেই বৈষম্যের শিকার। পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ধারক-বাহক এই রাষ্ট্র নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করে। এখানে নারীর গৃহস্থালী কাজের কোনও স্বীকৃতি নেই।’
সমাবেশে বক্তাদের দাবি, ‘বাল্যবিয়ে বন্ধসহ অবিলম্বে প্রতিটি মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নারী-শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া বন্ধ করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সংগঠনের অর্থ সম্পাদক নাঈমা খালেদ মনিকা, দফতর সম্পাদক তৌফিকা শিক্ষা, ঢাকা নগরের সদস্য নাজমিন আক্তার শারমিনসহ অনেকে।









