মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান লিখে শেষ করা যাবে না। সবার নাম মুখস্থ রাখতে হবে এমন নিয়মও নেই। কিন্তু দুটি মাত্র সড়ক ও একটি পার্ক—সেটাই প্রচলিত হচ্ছে না। প্রচারেও নেই কোনও উদ্যোগ।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নামফলক লাগানো হয়েছে দায়সারাভাবে। বেশিরভাগ ফলক দেখাও যায় না। পোস্টারে ঢেকে গেছে। সরকারি অফিসগুলোর ঠিকানাতেও দেখা গেছে পুরনো নাম।
গত ২৫ মার্চ প্রথম দফায় ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যদিও এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে মনে করে মন্ত্রণালয়। ওই দিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আগে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকাগুলো মূলত ঢাকাসহ বড় শহরকেন্দ্রিক ছিল। জেলাপর্যায়ে বিষয়টি অনেকে জানতো না। এখন জানার পর আবেদন এসেছে। এরপর একটা মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে কারা বুদ্ধিজীবী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় থাকবেন।
মন্ত্রী বলেন, সংজ্ঞা অনুযায়ী যেসব সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক সঙ্গীত ও শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহীদ কিংবা চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন তারা শহীদ বুদ্ধিজীবী বিবেচিত হবেন।
এই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেও দুই সিটি করপোরেশন তাদের নামে রাজধানীর সড়কের নাম রাখার উদ্যোগ নেয়। তবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নামে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি সড়ক ও একটি পার্কের নাম রাখার তথ্য পাওয়া গেছে।
মগবাজার মোড় থেকে মৌচাক মোড় পর্যন্ত আছে একটি সড়ক। ওটার নাম শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক। কিন্তু সেন্ট্রাল রোডের মতো এ রোডের নামও মানুষের মুখে এখনও বদলায়নি। মগবাজার থেকে মৌচাকগামী অংশকে এখনও সবাই ‘নিউ সার্কুলার রোড’ ও মৌচাক থেকে মগবাজারগামী সড়ককে ‘আউটার সার্কুলার রোড’ নামেই ডাকছে। নতুন নাম মানুষের কাছে অপরিচিত। প্রতিটি দোকানের সাইনবোর্ডেই তাই পুরনো নাম দেওয়া।
জানতে চাইলে স্থানীয় দোকানী ফরিদ উদ্দিন বলেন, দোকানের ঠিকানায় নতুন নাম ব্যবহার করলে তো মানুষ চিনবে না। তাছাড়া কেউ তো এ নিয়ে বাধাও দেয়নি। সিটি করপোরেশন যদি নোটিশ করতো তা হলে আমরা ঠিক করে দিতাম।’
এই সড়কের মগবাজার থেকে মৌচাকগামী অংশেও পুলিশের রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার। সেখানকার ঠিকানাতেও লেখা ‘নিউ সার্কুলার রোড’।
শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেদ সরদার পার্কের অবস্থাও তাই। আশপাশের বাসিন্দারা একে সিক্কাটুলী পার্ক নামেই ডাকছে এখনও। পার্কটিকে আধুনিকায়ন করে একটি সুদৃশ্য নামফলক বসানো হয়েছে। স্থানীয় হাজী ইউসুফ আলী বলেন, ‘পার্কটিকে সবাই সিক্কাটুলী পার্ক ডাকে। নতুন নাম রাখা হয়েছে শুনেছি। কিন্তু ওই নামে কেউ চেনে না।’
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নাম রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। কিন্তু এ নিয়ে এখনও কারও মাথাব্যথা নেই। স্থানীয়রাও জানে না কোন সড়কের প্রকৃত নাম কোনটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও সড়কের নতুন নামকরণ হলে নামফলক তৈরি করা হয়। ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে আমরা নতুন নাম দিচ্ছি। তবে মানুষের কাছে পরিচিত করতে দরকার প্রচারণা।’








