‘এই যে দেখছেন জাতীয় পতাকা বিক্রি করছি। এটা শুধু পতাকা না, এটা আমার কাছে একটা আবেগ। এই আবেগ সবার কাছে পৌঁছে দিতেই ফেরি করে বেড়াচ্ছি। দেশকে ভালবাসি বলেই দেশের সব বয়সীদের কাছে পৌঁছে দিতে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছি। শুধু টাকার জন্য পতাকা বিক্রি করি না’—বলছিলেন রিপন মজুমদার। মাদারীপুর থেকে ঢাকায় এসে পতাকা বিক্রি করছেন তিনি।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় রিপন মজুমদারের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘একটা সময় আমি নিজেই ১০ টাকার জন্য একটি পতাকার কিনতে পারিনি। এই কষ্টটা আমাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়। আমি দাম চাই কিন্তু দামাদামির এক পর্যায়ে বিক্রি করে দেই। ১০-১৫ টাকা কম হলেও বিক্রি করে দেই। এটি আমার কাছে আনন্দের।’
মাদারীপুরে একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন জানিয়ে রিপন বলেন, ‘বিজয় দিবস কেন্দ্র করে এ মাসের শুরুর দিকে আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে ঢাকায় আসি। পাঁচ জনই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে পতাকা বিক্রি করছি।মোহাম্মদপুরে একটি ভাড়া বাসায় থাকছি। গুলিস্তান থেকে পতাকা কিনে মিরপুর, আগারগাঁও, শ্যামলী, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি। ভালোই বিক্রি হচ্ছে। যাদের পতাকার প্রতি আগ্রহ তাদের এবং বিশেষ করে শিশুদের আমি ছোট পতাকাগুলো ফ্রি দেই।’
কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে রিপন মজুমদার বলেন, ‘এখানে টাকা পয়সার কোনও হিসাব নয়। পতাকা বিক্রি করি—এটাই গর্বের। টাকা দিয়ে এর সম্মান কেনা যাবে না।’
রিপন আরও বলেন, ‘৪ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকায় আসি। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করবো। তারপর কিছু টাকা নিয়ে বাড়ি যাবো। শুধু ডিসেম্বর মাসে পতাকা বিক্রি করি না, মাদারীপুরে আমার জুতার দোকানের পাশেও আমি পতাকা রাখি। সেখানেও বিক্রি করি। ভালোলাগা থেকেই আমার এই পতাকা বিক্রি।’









