জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) ‘টেকসই উন্নয়নে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও জেন্ডার সমতা’ বিষয়ক একটি অনলাইন গোলটেবিল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের শিক্ষক ড. সোমা দে, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি, অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত, বাংলা ট্রিবিউনের চিফ রিপোর্টার উদিসা ইসলাম, ইউনিসেফ বাংলাদেশের চাইল্ড প্রটেকশন স্পেশালিস্ট শাবনাজ জাহেরীন, ইউএনডিপির জেন্ডার এক্সপার্ট বিথিকা হাসান, এটিএন বাংলার সিনিয়র ভিডিও এডিটর রোকসানা বানু, নাগরিক উদ্যোগের নাদিরা পারভিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি।
সভায় নাছিমা বেগম বলেন, ‘মানবাধিকার অর্থ শুধু গুম, খুন— এসব থেকে রক্ষার অধিকারই নয়। বাসস্থানের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নারী ও শিশুদের অধিকারও মানবাধিকার। আমরা ভেবেছিলাম করোনাকালে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতন কমবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে— নির্যাতন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই জায়গাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ করছি। মানবাধিকার কমিশন এটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব না, তাই আমি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘আজকের কন্যাশিশুরা আগামী দিনের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে হলে কন্যাশিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আজকের আয়োজনে আমরা টেকসই উন্নয়নের কথা বলেছি। বর্তমানে আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি দেখতে পাই। কিন্তু পুরুষদের সঙ্গে যদি তুলনা করি তাহলে নারীরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। নারী ও কন্যাশিশুদের মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে আমাদের এখনও অনেক দূর যেতে হবে।’
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল দেশের সকল জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদাশীল জীবন গড়ে তোলা। কিন্তু অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য আত্মমর্যাদাশীল জীবন তৈরি করতে না পারলে আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হবে না। কন্যাশিশুদের অধিকার হরণের একটি বড় ক্ষেত্রে হচ্ছে বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহের ফলে শুধু কন্যাশিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে।’
অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, ‘বর্তমানে কন্যাশিশুদের জন্য দুইটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ— কর্মসংস্থান ও সহিংসতা। সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষক ও স্থানীয় সরকার— এই তিনটা মিলিয়ে যে ভূমিকা রাখা দরকার ছিল, দুঃখজনকভাবে সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেও এই সহিংসতা বন্ধ করা যাচ্ছে না।’
উদিসা ইসলাম বলেন, ‘আমরা মূল জায়গায় কাজ করতে পারছি না। নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর নির্যাতিতকে পুনর্বাসিত করার কাজ নেই বললেই চলে। সেটি করতে পারলে নির্যাতিতরা সাহস পাবে যে, তাদের পাশে কেউ আছে।’
সোহরাব হাসান বলেন, ‘গত ৫০ বছরে আমাদের অনেক অর্জন যেমন আছে, ব্যর্থতাও কম নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা ব্যাপকতা পেয়েছে। নারীর প্রতি রাষ্ট্রের, সমাজের, ধর্মের, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি কী এগুলো কিন্তু আলোচনায় আসা উচিত এবং কাজটি শুরু করতে হবে তৃণমূল থেকে।’
তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেক ক্ষেত্রে যেমন এগিয়ে গিয়েছি, তেমনই অনেক নেগেটিভ ফ্যাক্টর আমাদেরকে পেছনের দিকে টেনে ধরেছে।’
নাদিরা পারভিন বলেন, ‘বর্তমানে ডিজিটাল ভায়োলেন্সের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কন্যাশিশুদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা যাবে বলে আমার মনে হয়।’









