সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেছেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবার আগে রাজনীতিকে অসাম্প্রদায়িক করতে হবে।
নড়াইলে লালন সাধক হারেজ ফকিরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে সামনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা দেখেছি চলতি বছরই তিনটি বড় বড় সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে নড়াইলে। এর আগেও আমরা এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদে এখানে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু এগুলো থামেনি। কারণ, আমরা বিচ্ছিন্নভাবে আছি। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এগুলো কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর উদ্দেশ্য হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলাম, সেই বাংলাদেশের চরিত্রকে পাল্টে দেওয়া। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে সংবিধানের যে কাটাছেঁড়া হয়েছে, এই ঘটনা তারই প্রতিফলন। ’
এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আরও বলেন, ‘রতন সিদ্দিকী বলেছেন, রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এর আগেও অনেকে নিয়েছেন, তাতে কী লাভ হয়েছে! তারা আবার নতুন করে পাকিস্তানি ভাবাদর্শ তৈরি করার ষড়যন্ত্র করেছে। বিপরীতে আমরা যারা অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলি, সাম্যের কথা বলি, তারা কি ঐক্যবদ্ধ আছি?’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকেই কোনোভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। রাষ্ট্র পরিচালনা করবে একটি রাজনৈতিক দল, তাই সবার আগে রাজনীতিকে অসাম্প্রদায়িক করতে হবে। আপনি রাজনীতি করবেন সাম্প্রদায়িক আর অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করবেন– সেটি কখনও হয় না। রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা যদি অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারি তাহলে এ ধরনের ঘটনা কখনও রোধ করা যাবে না। আর এর জন্য আমাদের একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
এ সময় তিনি জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ঢাকায় সারা দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক সম্মেলন করবে। এর মাধ্যমে কীভাবে আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে হিসেবে গড়ে তোলা যায় সে জন্য কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।
অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী বলেন, ‘সরকার ও রাষ্ট্রকে বলছি– মৌলবাদকে প্রতিরোধ করার সময় এসেছে। ধর্মান্ধতা-সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিরোধ করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ’
বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্প সংস্থার কোষাধ্যক্ষ রুবেল সাইদুল আলম বলেন, ‘এই ফকিররা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করেছেন। তাদের অনেকেই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। লালন সাঁইয়ের মতো একজন দার্শনিকের দর্শন চর্চাকারীর ওপর হামলা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এসএম সুলতানের নড়াইলে আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ’
সমাবেশে আরও ছিলেন বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি তপন মাহমুদ, সহ-সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র শীল, সংগীতশিল্পী ও লালন গবেষক সরদার হীরক রাজা প্রমুখ।









