ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ঝক্কি কাটিয়ে কাজে ফিরেছেন রাজধানীর স্বল্পআয়ের মানুষ। সোমবার দিনভর বৃষ্টি ও রাতের ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে আয় রোজগার না হওয়ায় মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) আগেভাগেই কাজে ফিরেছেন তারা। তবে কাজের অভাবে দু’মুঠো ডাল-ভাতের জন্য মুখে হাত দিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।
রাজধানীর পুরান ঢাকার ধোলাইখাল, সদরঘাট, লক্ষীবাজার, রায়সাহেব বাজার, বাহাদুরশাহ পার্ক, বাংলাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে রাতের ঝড়ের ছাপ এখনও স্পষ্ট। এরমধ্যে দোকান সাজাচ্ছেন ভাসমান হকাররা। সাধারণত দুপুর ৩টার দিকে হকাররা তাদের পসরা নিয়ে বসলেও সোমবারের ব্যবসার ক্ষতি কাটাতে আজ একটা থেকেই দোকান বসিয়েছেন তারা। চা ও স্ট্রিট ফুডের দোকানদাররা আগেভাগে এসে তাদের ভাসমান দোকান গোছাচ্ছেন। ঝড়ে ক্ষতি হওয়া ভ্যানগাড়ি আর কেরোসিনের চুলা গোছগাছ করছেন। দৈনিক মজুরি খাটা মানুষেরা সকাল থেকে বসে আছেন কাজের আসায়। তবে ঝড়ের রেস না কাটায় আজ সড়কে মানুষের আনাগোনা কম, ফলে যারা দোকান খুলেছেন আশানুরূপ বিক্রি নেই তাদের।
লক্ষীবাজার এলাকায় ভাসমান চায়ের দোকানি মামুন ঠিক করছিলেন নিজের ও আশেপাশের কয়েকজন দোকানির কেরোসিনের চুলা। পানি ঢোকায় চুলাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আরেকটু বেলা করে দোকান খুলি। আজ আগেভোগে এসেছি। এসে দেখি, স্টোভে পানি ঢুকেছে। এখন তেল পাল্টিয়ে রোদে রাখবো। অনেকের ভ্যানগাড়িরও টুকটাক ক্ষতি হয়েছে।’
বাংলাবাজার এলাকায় কুলির কাজ করেন আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘কালতো কোনও কাজ হয়নি। আমাদের তো ইনকাম কম, দিন আনি দিন খাই। একদিন কাজ না হওয়া পেটে ভাত জুটবে না। কাল রাতে খাইনি, সকাল থেকে এসে বসে আসি, বই টানার কাজ পাওয়ার জন্য। সকালে একটা কাজ পাইছি, নাস্তা করছি। এখনও দোকান খুলেনি কেউ। আরেকটা কাজ পেলে দুপুরের খানা খাবো।’
সদরঘাটের সামনে কয়েক ছড়া কলা নিয়ে বসেছিলেন এমদাদ খাঁ। এত কম কলা নিয়ে বসে আছেন কেন, জানতে চাইলে বলেন, ‘আড়তে কলার দাম বেশি। কালকের কলা, তাও হালিপ্রতি ১০ টাকা বেশি দিয়ে মাল আনতে হয়েছে। কালকের কলা তাই মানুষ নিতে চাচ্ছে না। গতকাল সারাদিন লঞ্চ বন্ধ ছিল, বসতে পারিনি। অন্যান্য দিন সন্ধ্যার আগে আসি, আজ একটু আগেই এসেছি, যদি খদ্দের পাই।’
ধোলাইখাল এলাকায় ভাসমান দোকানে কাপড় বিক্রি করেন মিলন শেখ। তিনি বলেন, ‘অন্যদিন দুপুরে দোকান খুলি। আজ সকাল সকাল বের হয়েছি, তাও বিক্রি নেই। রাস্তায় মানুষ কম, মনে হচ্ছে ছুটির দিন।’
সদরঘাটে কুলির কাজ করেন আমির গাজি। তিনি বলেন, ‘এখনতো পদ্মা সেতুর জন্য এমনিতেই আমাদের পেটে টান। কাল থেকে লঞ্চ বন্ধ। আজ রাতে ছাড়বে, তাই আগেভাগে চলে আসছি, যদি বিকালে মালটানার কোনও কাজ পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে রাতে ডাল-ভাত খেতে পারবো।’









