বর্তমানে আত্মহত্যা ভয়াবহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এর অন্যতম প্রধান কারণ মানসিক অসুস্থতা। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে 'ইয়ুথ কার্নিভাল'।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে বাংলাদেশ মেন্টাল হেলথ নেটওয়ার্কের উদ্যোগে ও আঁচল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় দিনব্যাপী ‘এসো জীবনের গান গাই’ স্লোগানে দ্যা ইয়ুথ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়।
সারাদিন নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালন করা হয়। কার্নিভাল শুরু হয় আলোচনা সভার মাধ্যমে। ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য পরামর্শ, থেরাপিউটিক কার্যক্রম—যেমন যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, আর্ট থেরাপি, কে থেরাপি দেওয়া হয়। এছাড়াও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ছিল মাইম, নৃত্য, ব্যান্ডের গান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও কাউন্সেলিং করেন ১৬টি সংগঠন। সন্ধ্যায় জলের গানের সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
উদ্বোধনী পর্বে আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, মানসিক সমস্যা বর্তমানে সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা। আমরা দেখতে পাই অনেকেই আছেন যারা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় তারা বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-পুত্র, সন্তান কাউকে বুঝতে চেষ্টা করেন না। এমনকি কখনও কখনও নিজের ঔরসজাত সন্তানকেও তারা হত্যা করেন। এটা এক ধরনের অসুস্থতা। কিন্তু তারা শারীরিকভাবে সুস্থ। আমাদের এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর বেরিয়ে আসার জন্য আজকের এই আয়োজন।
মন্ত্রী নিজের ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সাইকিয়াট্রিকের সাথে দুটি সেশনে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যখন মেয়েকে নিয়ে গিয়েছি—তখন তিনি সব মেয়ের পক্ষে কথা বলেছেন। আর ছেলেকে নিয়ে যখন গিয়েছি—তখন তিনি সব ছেলের পক্ষে কথা বলেছেন। তারা যখন বাসায় যায় তখন তারা বলে যে আমাকে বলেছে সব ঠিক, আরেকজন বলে আমাকে বলেছে আমি ঠিক। কিন্তু আমি নিবিড়ভাবে লক্ষ করেছি—ওই ডাক্তার সবশেষ সবকিছু সমর্থন করার পর বলেন যে, আপনার এই জায়গায় একটু সংশোধন করা উচিত। কিন্তু তারা সেই জায়গাটা না নিয়ে বাকিগুলো নেয়—কারণ সেগুলো তাদের পক্ষে। যেগুলো তাদের বিপক্ষে সেগুলো তারা মানতে চায় না। এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আজকের এই আয়োজন। এ আয়োজনের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। এসময় মন্ত্রী পুরো দেশব্যাপী এ আয়োজনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেন্টাল হেলথ নেটওয়ার্কের চেয়ারপারসন অধ্যাপক শাহিন ইসলাম। বিশেষ অতিথির উপস্থিত ছিলেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের মেন্টাল হেলথ কনসালটেন্ট ড. আশিক সেলিম, ডা. শফিকুল ইসলাম।
ড. আশিক সেলিম বলেন, আজকের মাঠে এতোগুলো স্টল দেখে আমি অনুপ্রাণিত। আমরা অনেকে বিচ্ছিন্নভাবে মেন্টাল হেলথ নিয়ে কাজ করছি, মনে হচ্ছে কাজ হচ্ছে না। কিন্তু এই ধরনের আয়োজন দেখলে মনে হয় কাজ হচ্ছে। বর্তমানে মেন্টাল হেলথকে গ্লোবালি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আমরা ডাক্তার হওয়ার পাশাপাশি বাবা, কারও কলিগ, কারও প্রতিবেশী। আর সে জায়গা থেকে আমরা নিকটস্থদের মানসিক সেবা দিতে পারি।
ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে ১৪ থেকে ২৯ বছরের বয়সের তরুণদের মানসিক সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে দেখা দিচ্ছে। সাম্প্রতিক আদমশুমারিতে দেখা গেছে—আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশ তরুণ। যা সংখ্যায় প্রায় সাড়ে চার কোটি। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে আমাদের দেশে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে। অনেককে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আমাদের লোকজন পাগল বলবে, তাই ডাক্তার দেখাই না। এদের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের এ আয়োজন। এটি প্রথম বারের মতো আমাদের আয়োজন, এটি একটি উৎসব।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী সেবাদানকারী সংগঠনগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন।









