রাজধানীর রূপনগর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় মো. মনির হোসাইন নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ‘এসএসসি বন্ধন ২০০১ বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে তার মাধ্যমে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।
এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে সোমবার (৫ জুন) আদালতে হাজির করা হয়। পরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম রাশাদ তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশেক ইমামের আদালত।
মো. মনির হোসাইন (৩৫) কর্মসংস্থান ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
মঙ্গলবার (৬ জুন) আদালতের রূপনগর থানার নিবন্ধন কর্মকর্তা সেলিম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, মনির ‘এসএসসি বন্ধন ২০০১ বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলেন এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে আসছিলেন। তিনি নারী সদস্যদের গ্রুপের মডারেটর বানানোর প্রস্তাব দিতেন। বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, খাওয়াদাওয়া ও বিভিন্ন ‘ছলনা করে’ নারীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় মনিরের একটি গোপন ‘হেরেমখানা’ আছে। যেটির বাইরে বাঁশের বেড়া, টিনের ঘর, দেখলে চোখে পড়ার মতো তেমন কিছু নয়। কিন্তু ভেতরে এসি রুম, উন্নত শয়নকক্ষ, অ্যাটাচ বাথ ও ইয়াবা সেবনের ব্যবস্থা। ফুর্তি করার সব উপকরণ মজুত রাখা সেখানে। ছিল একাধিক গোপন ক্যামেরাও। ওই ক্যামেরায় তার অনৈতিক কাজের সব কর্মকাণ্ড রেকর্ড করে রাখতেন মনির।
সিআইডি আরও জানায়, ‘এসএসসি বন্ধন ২০০১ বাংলাদেশ’ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে মনির অভিযোগকারী নারীসহ একাধিক নারীর সঙ্গে গ্রুপের মডারেটর বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ভিডিও কলে কথা বলে তা স্ক্রিন রেকর্ড করে রাখতেন। পরে সেই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন। শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ভিডিও করে রাখেন মনির। এ ছাড়া বিভিন্ন নারীকে নিজের কবজায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে ধনাঢ্য লোকদের কাছে পাঠাতেন মনির। ভুক্তভোগী নারীরা সামান্য টাকা পেলেও মনির ভাগ পেতেন মোটা অঙ্কের টাকা।
সিআইডি জানায়, অভিযোগকারী নারীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন মনির। ভুক্তভোগীর স্বামী অফিসে চলে গেলে কখনও কখনও মনির ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে হানা দিতেন। এভাবে জীবন অতিষ্ঠ করে তোলায় তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হন।
এসব অভিযোগে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম মনিরকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ও ছবি, দুটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, মেমোরি কার্ড ও দুটি গোপন ক্যামেরা জব্দ করে।
মনিরের বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে বলে জানায় সিআইডি।









