রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে (রুয়াপ) ৩৫০টি গাছের চারা রোপণ করে সবুজায়ন কার্যক্রম শুরু করলেন এলাকাবাসী। ‘গ্রিন রুয়াপ’-এর আয়োজনে শনিবার (১৭ জুন) মুক্ত পার্কিং প্লটের চারপাশে শিশুদের নিয়ে প্রথম ধাপের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নিজেদের উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে পুরো এলাকাজুড়ে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে স্থানীয়দের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাফফর উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘রাজউক এই প্রকল্পের অভ্যন্তরে ল্যান্ডস্কেপিংয়ের নকশা চূড়ান্ত করেছে এবং শিগগিরই বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করবে। প্রকল্পের যেকোনও ভালো কাজে রাজউক সবসময়ই সহযোগিতা করে যাবে।’
অনুষ্ঠানে গ্রিন রুয়াপের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাবিবুর সাবেরীন বলেন, ‘গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে আগামীর পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর শহর নির্মাণে বৃক্ষরোপণের কোনও বিকল্প এখন আর নেই।’
গ্রিন রুয়াপের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই ছিল এলাকায় বসবাসরত শিশুরা। তাদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে গ্রিন রুয়াপের সদস্য ও কবি মোক্তার হোসেন বলেন, ‘শিশুরা একটি করে গাছ রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষপ্রেমী হয়ে উঠবে। তারাই এদেশের ভবিষ্যৎ। শিশুদের সঙ্গে গাছগুলো বড় হতে হতে রুয়াপ হয়ে উঠবে আরও সবুজ ও বর্ণিল।’
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন রাজউকের উপ-পরিচালক সুলতানা রাজিয়া দ্দৌলা, ডিজাইনার শামসুন্নাহার ইভাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রকল্পের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, শাহীন আনোয়ার, সুজিত কুমার সাহা, জিলানী জিদনি, তারেকুল ইসলাম, আনিসুর রহমানসহ আরও অনেকে।
রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প বাংলাদেশের প্রথম ‘কন্ডেনিয়াম সিটি’, যা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এলাকাটিতে সবুজায়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও রাজউক বৃক্ষ রোপণের কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি। রাজধানী ঢাকায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ৬ হাজার ৬৬৬টি ফ্ল্যাটের এই প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে মানুষ বসবাস শুরু করেছে। বর্তমানে এই প্রকল্পে প্রায় চার হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রাজউক এখনও এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি।









