অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল-২০২৩ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ করেছে শ্রমিক-কর্মচারীদের কয়েকটি সংগঠন। সমাবেশ শেষে পদযাত্রা শুরু করলে হাইকোর্ট মোড়ে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে 'জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি পেশ' শীর্ষক সমাবেশ যৌথভাবে আয়োজন করে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।
স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও নঈমুল আহসান জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মো. জাফর, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান, স্কপনেতা আমিরুল হক আমিন, আহসান হাবিব বুলবুল প্রমুখ।
পদযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগঠনের নেতারা অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল প্রত্যাহারের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং দাবির সমর্থনে স্কপের কর্মসূচির বিবরণ দিয়ে বলেন, আমরা শ্রমমন্ত্রীকে জানিয়েছি, সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছি, প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আজ আমরা জাতীয় সংসদের সভাপতি স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরবো। এরপরও যদি এই শ্রমিকবিরোধী বিল প্রত্যাহার না করে কৌশল করা হয় বা পাস করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সর্বাত্মক ধর্মঘট আহ্বান করা ছাড়া বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের সামনে আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।
তারা বলেন, আমাদের আশঙ্কা– এই অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল আইনে পরিণত হলে তা শ্রম আইনকে অকার্যকর করে ফেলবে। কারণ শ্রম আইনের ওপর এই আইনের প্রাধান্য থাকবে এবং এই বিল আইনে পরিণত হলে শ্রম আইনে ধর্মঘটের যতটুকু আইনসংগত অধিকার আছে সেটাও বাস্তবে কেড়ে নেওয়া হবে। যদিও এই বিলে অত্যাবশ্যক পরিষেবা বলতে ১৮টি সেক্টরকে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু সাধারণভাবে সকল সেক্টরের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে তাদের উপর কাজের চাপ, নিপীড়ন ও বঞ্চনা আরও বাড়বে কিন্তু প্রতিবাদ করার কোনও সুযোগ বা অধিকার থাকবে না৷
সমাবেশ শেষে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে হাইকোর্ট মোড়ে তাদের আটকে দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হবার পরে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের সাতজনের একটি টিম সংসদে চলে গিয়েছে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করতে। আমরা স্পিকারের মাধ্যমে আমাদের স্মারকলিপি সংসদ সদস্যদের কাছে পৌঁছে দিবো। এরপর আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।








