এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১৮টি স্থাপনাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এছাড়াও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার ৮৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মতিঝিল, পল্টন, চকবাজার, সূত্রাপুর, জুরাইন, দক্ষিণগাঁও, ডেমরা ও শরীফাপাড়া এলাকায় ডিএসসিসি পরিচালিত ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে ২৮০টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শাহনেওয়াজ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মতিঝিল এলাকায় ১৮টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় কোনও স্থাপনায় মশার লার্ভা পাননি। একই অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার হক ১৩ নম্বর পল্টন এলাকায় ২৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় দুটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় দুই মামলায় ৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
তিন নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তায়েব-উর-রহমান চকবাজারের খাজে দেওয়ান এলাকার প্রথম লেন ও দ্বিতীয় লেনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৩৮টি বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেন তিনি। আদালত প্রথম লেনে ‘স্টুডিও প্রোপার্টি’ কর্তৃক একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রচুর পরিমাণে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় প্রকল্পটির সুপারভাইজার ফাতেমা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নুর ইসলামের বিরুদ্ধে দুইটি মামলায় যথাক্রমে এক লাখ ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করেন। তাছাড়া দ্বিতীয় লেনে আরেকটি ব্যক্তি মালিকানাধীন নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ভবনটির প্রতিনিধি মিরাজুর রহমানকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করেন আদালত।
চার নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের সূত্রাপুর এলাকায় ২৫টি স্থাপনা ও বাসাবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। দুইটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পান। আদালত এ সময় ভবন দুইটির মালিককে সতর্ক করে দেন।
পাঁচ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জুরাইন এলাকায় ২৪টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। একটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় এক মামলায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন তিনি।
সাত নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওসীফ রহমান ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দিপাড়ার দক্ষিণগাঁও এলাকায় ৩৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। পাঁচটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পান। পাঁচ মামলায় জরিমানা আদায় করেন ২১ হাজার টাকা।
আট নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডেমরা এলাকায় ৩৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। একটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় এক মামলায় দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
৯ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাবাড়ীর শরীফাপাড়া এলাকায় ৪৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। মশার লার্ভা পাওয়ায় পাঁচ মামলায় পাঁচটি স্থাপনাকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি।









