সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে চালকদের স্বাস্থ্য এবং দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২৯, ৩০ ও ৩১ জুলাই তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ স্বাস্থ্য ও চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক নীলিমা অখতার জানান, চক্ষু পরীক্ষায় যেসব চালকের চোখের পাওয়ার সমস্যা চিহ্নিত হবে, তাদের ‘ভিশন স্প্রিং’র সহায়তায় বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, গাড়ি চালানোর সময় চালকদের শরীর ও চোখের ওপর তীব্র চাপ পড়ে। অথচ তাদের বেশিরভাগই চোখের সমস্যার ব্যাপারে সচেতন নন।
তারা জানায়, ২০২৩ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, ৬৩ শতাংশ চালক স্বাস্থ্য সমস্যায় এবং ৬৭ শতাংশ চালক চোখের সমস্যায় ভুগছেন।
এই ক্যাম্পে চালকদের জন্য ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার, অক্সিজেন লেভেল, উচ্চতা-ওজন পরিমাপসহ নানা সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চোখের চাপ, রেটিনা, গ্লকোমা, নাইট ভিশন ও পাওয়ার মাপার মতো চক্ষু সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ক্যাম্প পরিচালনায় সহায়তা করছে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, বারডেম হাসপাতালসহ প্রায় ২০টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মঈনুদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে চালকদের চোখের রোগ দায়ী। চোখ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা গেলে এ মৃত্যুর হার অনেকটাই কমবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। দুজনেই চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের প্রক্রিয়ায় চক্ষু পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনব্যাপী এই স্বাস্থ্য ও চক্ষু ক্যাম্প পরিচালিত হবে রাজধানীর তেজগাঁও বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালে। ডিটিসিএ আশা করছে, এই উদ্যোগ চালকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









