আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের বর্ষপূর্তিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন ও ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা।
তবে সকাল ১১টার পরপরই অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চে হঠাৎ প্রবেশ করে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। আধাঘণ্টার মতো সময় ধরে তারা পুরো মঞ্চ ঘিরে চূড়ান্ত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ চালায়। ডিজিটাল ডিভাইস, ড্রোন স্ক্যানার এবং হ্যান্ড স্ক্যানিং যন্ত্র দিয়ে তারা স্টেজের প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করে দেখেন।
দর্শকদের অনেকেই বিষয়টি দেখে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হলেও পরে জানা যায়, এটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, বিকাল ৫টায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ ও সন্ধ্যার ড্রোন শো ঘিরে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সেনা সদস্যরা স্টেজের নিচ থেকে শুরু করে উপরের সাউন্ড সিস্টেম, আলো, এলইডি স্ক্রিন, জেনারেটর, ব্যাকআপ লাইট কন্ট্রোল, ক্যাবল কানেকশন—সবকিছু উল্টেপাল্টে পরীক্ষা করেন। তাদের কাছে থাকা উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক উপকরণ শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষণের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।
নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘অনুষ্ঠানের মতোই আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিরাপত্তায়। কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার সুযোগ না পায়, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে শুধু মঞ্চ নয়, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতাও।
অনুষ্ঠানে বিকাল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়।
বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
ঘোষণাপত্র পাঠ উপলক্ষ্যে উপস্থিত থাকবে অভ্যুত্থানের শরিক রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলো। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বলে আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন।
দর্শকদের অনেকেই সেনাবাহিনীর এই তৎপরতাকে ‘ইতিবাচক এবং আশ্বস্তকারী’ হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ বলছেন, ‘এই অভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়—এটি ইতিহাস, আর ইতিহাস রক্ষা করতে গেলে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।’
আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা জানান, গোটা এলাকাজুড়ে গোয়েন্দা ও সামরিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।









