বাংলা সাহিত্যের অমর কবি, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘পল্লীকবি জসীমউদ্দীন পাঠাগার’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় বারিধারা পার্কে নব নির্মিত এ পাঠাগার উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. সলিমুল্লাহ খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে ঢাকার পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ৫০টি বুক ক্যাফে স্থাপন করা হবে, যা কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিচালিত হবে। এসব পাঠাগার ও পাবলিক স্পেস ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।’
প্রথিতযশা চিন্তাবিদ, লেখক ও বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসপাঠ এতদিন ১৯৫২ সাল থেকে শুরু করা হয়েছে, সচেতনভাবে ১৯৪৭ সালকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। একপাক্ষিক ইতিহাস বর্ণনার এই সংকীর্ণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লীকবির পুত্র খুরশীদ আনোয়ার জসীম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘জসীমউদ্দীনের বই পড়লে একজন মানুষ দেশপ্রেমিক ও মানবিক হয়ে উঠবে। এই পাঠাগার যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখবে এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।’
এছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি ড. জহিরুল ইসলাম কচি।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বারিধারা সোসাইটির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এবং বারিধারা সোসাইটির সার্বিক সহযোগিতায় নির্মিত এ পাঠাগার স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সাহিত্যচর্চা, পাঠাভ্যাস, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
পাঠাগারটির মাধ্যমে বারিধারা সোসাইটির সব বয়সী সদস্যদের মধ্যে পাঠাভ্যাস ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








