সরকার ঘোষিত সিডিউল অনুযায়ীই জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা বা যাচাই-বাছাইয়ের সময়সূচি নির্ধারণ করে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জেলা সদরে। জেলা পরিষদ আইন পর্যালোচনা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন তারিখসহ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করে থাকলেও প্রথমবারের মত অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এই নিয়মের কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এ হিসেবে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর সেই অনুযায়ী অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে ‘পরিষদ প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনে যেভাবে রয়েছে সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ আইনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে। আমরা সেই তারিখ ধরে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে নির্বাচন সম্পন্ন করব।’
আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বর্তমান সরকার জেলা পরিষদ নির্বাচন করতে চায় বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রত্যক্ষ নির্বাচনের আদলে পরোক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিধিমালার খসড়া প্রণয়ন করে কমিশনে উপস্থাপন করলে বেশিরভাগ কমিশনার তাতে আপত্তি জানান। পরে কমিশনারদের পরামর্শে সচিবালয় নতুন করে নির্বাচনি বিধিমালা ও আচরণবিধির খসড়া তৈরি করে আবারও কমিশন বৈঠকে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় কেবল জেলা সদরে নির্বাচনি কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একজন প্রিজাইডিং অফিসার জেলার সব ভোটগ্রহণ করবেন। জেলায় ১৫টি বুথ স্থাপন করা হবে। সেখানে তিনটি পদেই নির্বাচকমণ্ডলী তাদের ভোট দেবে।
বিধিমালায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি অনলাইনে নমিনেশনপত্র জমার দেওয়ার বিধান যুক্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনলাইনে জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের দিনে মনোনয়নপত্রের মূলকপি জমা দিতে হবে।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় প্রার্থীরা মাইকের ব্যবহার ও পথসভা করতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে কমিশন সচিবালয় প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও মাইকের ব্যবহার ও পথসভার বিধান রাখতে কমিশন তাতে আপত্তি জানিয়েছে। এছাড়া একজনপ্রার্থী একটি উপজেলায় একটির বেশি নির্বাচনি অফিস করতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়। বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থক নির্বাচনমণ্ডলী থেকে করতে হবে বলে জানানো হয়। অর্থাৎ কোনও জনপ্রতিনিধি বাদে সাধারণ ভোটাররা কোনও প্রার্থীর প্রস্তাবক বা সমর্থক হতে পারবে না।
/এমএনএইচ/








