বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী, মানুষের শব্দ গ্রহণের সহনীয় মাত্রা ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবল। অথচ সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, রাজধানী ঢাকায় নিরব এলাকা হিসেবে ঘোষিত এলাকাতেও শব্দের মাত্রা থাকে এর চেয়ে অনেক বেশি। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকার সমন্বিত প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তবে সবার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া একের পর এক প্রকল্প হাতে নিলেই হবে না, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এমনই পরিস্থিতিতে আজ বুধবার (২৮ এপ্রিল) পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর হিয়ারিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ বা ‘লীগ ফর দ্য হার্ড অব হেয়ারিং’ ১৯৯৬ সাল থেকে এই দিনটিকে ‘শব্দ সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালন করছে। প্রতিবছরের এপ্রিল মাসের যে কোনও বুধবারকে তারা এই দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। চলতি বছর ২৮ এপ্রিল এই দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রোটেক্ট ইয়োর হেয়ারিং, প্রোটেক্ট ইয়োর হেলথ’। ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। সরকারিভাবে পরিবেশ অধিদফতর বুধবার দুপুরে আয়োজন করেছে এক আলোচনা সভার। অনলাইন প্লাটফর্মে পরিবেশ অধিদফতরের অধীনে ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশিদারিত্বমূলক প্রকল্প’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ গ্রহণের কথা রয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে— উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসানের। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রকল্পের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির।
দেশে মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আমরা সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প নিয়েছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে শব্দ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা হবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শব্দদূষণ সহনীয় পর্যায় নেমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’
পরিবেশ অধিদফতরের প্রকল্পের বিষয়ে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়টির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘‘এর আগেও সরকার এ ধরনের একটি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। সেটির নাম ছিল— ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশিদারিত্বমূলক কমসূচি।’ ওই প্রকল্পে ৮টি বিভাগের দূষণের মাত্রা দেখা হয়েছিল। এবারের প্রকল্পের নাম— ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশিদারিত্বমূলক প্রকল্প।’ এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৪ জেলার শব্দদূষণের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রায় ৪৮ কোটি টাকা অর্থায়নে কেবল তথ্য পরিমাপ করলেই হবে না। তথ্যগুলো সংগ্রহের পর দূষণের কারণ নির্ধারণ করে তা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া না গেলে, এই প্রকল্প কোনও কাজে লাগবে না।’
তিনি বলেন, ‘বার বার প্রকল্প না নিয়ে বাস্তবে এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা দরকার।’ পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে কাজের জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপরে গুরুত্ব দেন তিনি।









